ঢাকা ১০:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বজুড়ে সংকট ও ইরানের পাল্টা রণকৌশল: পরিবর্তিত মেরুকরণ

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি বিশ্বব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যেকার বর্তমান উত্তেজনা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে যুদ্ধের আশঙ্কা প্রবল। একদিকে আমেরিকার ‘ইরানে নরক নামানোর’ হুমকি, অন্যদিকে অত্যাধুনিক মার্কিন বিমান ও হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার খবর—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সংঘাতের চরম শিখরে।

আমেরিকা দাবি করেছিল ইরানের আকাশসীমায় তাদের পূর্ণ আধিপত্য রয়েছে, কিন্তু একদিনে একাধিক বিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস হওয়ার ঘটনা সেই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান সম্ভবত ইনফ্রারেড প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে আমেরিকার আকাশপথের শ্রেষ্ঠত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় আমেরিকা ও ইসরাইল ইরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আঘাত হানছে, যা একটি জাতির মেধা ও ভবিষ্যৎ সক্ষমতাকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের তত্ত্ব অনুসরণ করছে। কৌশলগত প্রতিরক্ষা, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে অর্থনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি এবং এরপর কৌশলগত পাল্টা আক্রমণ—প্রতিটি ধাপে ইরান অত্যন্ত সতর্ক। এর ফলে আমেরিকা এক জটিল ফাঁদে আটকা পড়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে খোদ আমেরিকায় জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তলানিতে এবং তার নিজের প্রশাসনের ভেতরেও বিভেদ দেখা দিয়েছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো আমেরিকার দীর্ঘদিনের মিত্রদের অবস্থান পরিবর্তন। ওমান ও কাতারের মতো দেশগুলো এখন ইরান ও ওমানের ‘হরমুজ প্রণালি ফি’ আদায়ের চুক্তিতে সমর্থন দিচ্ছে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি ফ্রান্স ও ইতালির মতো ইউরোপীয় দেশগুলোও আমেরিকার যুদ্ধংদেহী মনোভাব থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে। বিশ্ব এখন আর একক মার্কিন আধিপত্য মানতে নারাজ, যা বৈশ্বিক মেরুকরণে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গণভোটের রায় ও অধ্যাদেশ পুনর্বহালের দাবি

বিশ্বজুড়ে সংকট ও ইরানের পাল্টা রণকৌশল: পরিবর্তিত মেরুকরণ

আপডেট সময় : ১০:০৬:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি বিশ্বব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যেকার বর্তমান উত্তেজনা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে যুদ্ধের আশঙ্কা প্রবল। একদিকে আমেরিকার ‘ইরানে নরক নামানোর’ হুমকি, অন্যদিকে অত্যাধুনিক মার্কিন বিমান ও হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার খবর—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সংঘাতের চরম শিখরে।

আমেরিকা দাবি করেছিল ইরানের আকাশসীমায় তাদের পূর্ণ আধিপত্য রয়েছে, কিন্তু একদিনে একাধিক বিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস হওয়ার ঘটনা সেই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান সম্ভবত ইনফ্রারেড প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে আমেরিকার আকাশপথের শ্রেষ্ঠত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় আমেরিকা ও ইসরাইল ইরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আঘাত হানছে, যা একটি জাতির মেধা ও ভবিষ্যৎ সক্ষমতাকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের তত্ত্ব অনুসরণ করছে। কৌশলগত প্রতিরক্ষা, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে অর্থনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি এবং এরপর কৌশলগত পাল্টা আক্রমণ—প্রতিটি ধাপে ইরান অত্যন্ত সতর্ক। এর ফলে আমেরিকা এক জটিল ফাঁদে আটকা পড়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে খোদ আমেরিকায় জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তলানিতে এবং তার নিজের প্রশাসনের ভেতরেও বিভেদ দেখা দিয়েছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো আমেরিকার দীর্ঘদিনের মিত্রদের অবস্থান পরিবর্তন। ওমান ও কাতারের মতো দেশগুলো এখন ইরান ও ওমানের ‘হরমুজ প্রণালি ফি’ আদায়ের চুক্তিতে সমর্থন দিচ্ছে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি ফ্রান্স ও ইতালির মতো ইউরোপীয় দেশগুলোও আমেরিকার যুদ্ধংদেহী মনোভাব থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে। বিশ্ব এখন আর একক মার্কিন আধিপত্য মানতে নারাজ, যা বৈশ্বিক মেরুকরণে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।