ঢাকা ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ইরানে ভূপাতিত মার্কিন বিমানের ধ্বংসাবশেষ: উত্তেজনা ও ভিন্ন দাবি

ইরানের ইসফাহান প্রদেশে মার্কিন বিমান উদ্ধার অভিযানের পর ভূপাতিত বিমান ও হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শাহরেজা শহরের কাছে পারজান গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রোববার গভীর রাতে আকাশে বিমান ও হেলিকপ্টারের শব্দ শোনার কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় তীব্র বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি।

এক গ্রামবাসী জানান, রোববার মধ্যরাতের পর থেকে আকাশে বিমান চক্কর দিতে থাকে এবং কিছুক্ষণ পরই বিস্ফোরণ ঘটে ও সারারাত গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে সেখানে দুটি মার্কিন সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমান এবং অন্তত দুটি হেলিকপ্টারের পোড়া ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। সোমবার বিকালে ইরানের সেনাবাহিনী ও পৌরসভার কর্মীরা ঘটনাস্থল পরিষ্কার করতে শুরু করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, একটি জটিল উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল ইরান ভূপাতিত একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের দুই পাইলটকে উদ্ধার করা। যুক্তরাষ্ট্র জানায়, অভিযানের সময় উড্ডয়নে ব্যর্থ হওয়ায় তারা নিজেরাই হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমানগুলো ধ্বংস করে দেয় এবং শত্রুপক্ষের হামলায় এগুলো ধ্বংস হয়নি। এই অভিযানে চারটি বোমারু বিমান, ৬৪টি যুদ্ধবিমান, ৪৮টি ফুয়েলিং ট্যাংকার ও ১৩টি উদ্ধার বিমানসহ মোট ১৫৫টি বিমান অংশ নিয়েছিল।

অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে যে তাদের বাহিনী অভিযানের সময় দুটি সি-১৩০ বিমান ও দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে। ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাঘারি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত উদ্ধার অভিযানটি ছিল একটি প্রতারণামূলক পরিকল্পনা, যা দক্ষিণ ইসফাহানের একটি পরিত্যক্ত বিমানবন্দরে পরিচালিত হয়। তিনি আরও বলেন, ভূপাতিত একটি বিমানের পাইলট উদ্ধারের অজুহাতে এ অভিযান চালানো হলেও ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ করে দিতে সক্ষম হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইরানি সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযানের সময় তার এক সহকর্মী নিহত হন। তিনি বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তাদের বাহিনী ঘটনাস্থলে গেলে হামলার মুখে পড়ে এবং সেখানেই তার সহকর্মী নিহত হন। বর্তমানে ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজ চলছে এবং ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে বড় ধ্বংসাবশেষ সরানো হচ্ছে ও ছোট অংশগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের কাছ দিয়ে যাওয়া একটি বেসামরিক গাড়িও হামলার মুখে পড়ে, যদিও যাত্রীরা প্রাণে বেঁচে যান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মুন্সীগঞ্জে পৃথক বজ্রপাতে কিশোরসহ দুইজনের প্রাণহানি

ইরানে ভূপাতিত মার্কিন বিমানের ধ্বংসাবশেষ: উত্তেজনা ও ভিন্ন দাবি

আপডেট সময় : ১২:৪৬:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের ইসফাহান প্রদেশে মার্কিন বিমান উদ্ধার অভিযানের পর ভূপাতিত বিমান ও হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শাহরেজা শহরের কাছে পারজান গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রোববার গভীর রাতে আকাশে বিমান ও হেলিকপ্টারের শব্দ শোনার কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় তীব্র বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি।

এক গ্রামবাসী জানান, রোববার মধ্যরাতের পর থেকে আকাশে বিমান চক্কর দিতে থাকে এবং কিছুক্ষণ পরই বিস্ফোরণ ঘটে ও সারারাত গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে সেখানে দুটি মার্কিন সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমান এবং অন্তত দুটি হেলিকপ্টারের পোড়া ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। সোমবার বিকালে ইরানের সেনাবাহিনী ও পৌরসভার কর্মীরা ঘটনাস্থল পরিষ্কার করতে শুরু করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, একটি জটিল উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল ইরান ভূপাতিত একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের দুই পাইলটকে উদ্ধার করা। যুক্তরাষ্ট্র জানায়, অভিযানের সময় উড্ডয়নে ব্যর্থ হওয়ায় তারা নিজেরাই হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমানগুলো ধ্বংস করে দেয় এবং শত্রুপক্ষের হামলায় এগুলো ধ্বংস হয়নি। এই অভিযানে চারটি বোমারু বিমান, ৬৪টি যুদ্ধবিমান, ৪৮টি ফুয়েলিং ট্যাংকার ও ১৩টি উদ্ধার বিমানসহ মোট ১৫৫টি বিমান অংশ নিয়েছিল।

অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে যে তাদের বাহিনী অভিযানের সময় দুটি সি-১৩০ বিমান ও দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে। ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাঘারি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত উদ্ধার অভিযানটি ছিল একটি প্রতারণামূলক পরিকল্পনা, যা দক্ষিণ ইসফাহানের একটি পরিত্যক্ত বিমানবন্দরে পরিচালিত হয়। তিনি আরও বলেন, ভূপাতিত একটি বিমানের পাইলট উদ্ধারের অজুহাতে এ অভিযান চালানো হলেও ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ করে দিতে সক্ষম হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইরানি সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযানের সময় তার এক সহকর্মী নিহত হন। তিনি বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তাদের বাহিনী ঘটনাস্থলে গেলে হামলার মুখে পড়ে এবং সেখানেই তার সহকর্মী নিহত হন। বর্তমানে ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজ চলছে এবং ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে বড় ধ্বংসাবশেষ সরানো হচ্ছে ও ছোট অংশগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের কাছ দিয়ে যাওয়া একটি বেসামরিক গাড়িও হামলার মুখে পড়ে, যদিও যাত্রীরা প্রাণে বেঁচে যান।