ঢাকা ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

শরীয়তপুরে পরিবেশ বিধ্বংসী অবৈধ সীসা কারখানা উচ্ছেদ

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কার্যক্রম চালানোর অভিযোগে একটি অবৈধ সীসা উৎপাদনকারী কারখানা উচ্ছেদ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের মহিষকান্দি এলাকায় কয়েক ঘণ্টাব্যাপী পরিচালিত অভিযানে কারখানাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক কে.এম রাফসান রাব্বি। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, একটি চক্র দীর্ঘ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পুরাতন ব্যাটারি সংগ্রহ করে তা পুড়িয়ে অবৈধভাবে সীসা উৎপাদন করে আসছিল এবং তা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করছিল। এই কার্যক্রমের জন্য তাদের কোনো ধরনের অনুমোদন বা লাইসেন্স ছিল না। স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানাটি থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া ও বর্জ্যের কারণে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছিল, যার ফলে গবাদিপশু অসুস্থ হয়ে পড়া ও মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছিল, যা এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। এর আগেও প্রশাসন একই কারখানায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও কারাদণ্ড প্রদানসহ কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা তা অমান্য করে রাতের আঁধারে পুনরায় উৎপাদন চালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিষয়টি নজরে এলে মঙ্গলবার আবারও অভিযান চালিয়ে এক্সাভেটরের মাধ্যমে পুরো কারখানাটি গুড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে সেখানে আর কোনো ধরনের কার্যক্রম চালানো না যায়। জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রাসেল নোমান বলেন, সীসা দূষণ জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও প্রাণিসম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি এবং এ ধরনের অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক কে.এম রাফসান রাব্বি জানান, কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা উৎপাদন করা হচ্ছিল, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও বেআইনি। তাই আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে কারখানাটি গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। প্রশাসনের এ পদক্ষেপে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে এবং তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার আশা করছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অধ্যাদেশ ও সংস্কার ইস্যুতে সরকারের ইউ-টার্ন

শরীয়তপুরে পরিবেশ বিধ্বংসী অবৈধ সীসা কারখানা উচ্ছেদ

আপডেট সময় : ০৭:০৪:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কার্যক্রম চালানোর অভিযোগে একটি অবৈধ সীসা উৎপাদনকারী কারখানা উচ্ছেদ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের মহিষকান্দি এলাকায় কয়েক ঘণ্টাব্যাপী পরিচালিত অভিযানে কারখানাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক কে.এম রাফসান রাব্বি। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, একটি চক্র দীর্ঘ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পুরাতন ব্যাটারি সংগ্রহ করে তা পুড়িয়ে অবৈধভাবে সীসা উৎপাদন করে আসছিল এবং তা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করছিল। এই কার্যক্রমের জন্য তাদের কোনো ধরনের অনুমোদন বা লাইসেন্স ছিল না। স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানাটি থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া ও বর্জ্যের কারণে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছিল, যার ফলে গবাদিপশু অসুস্থ হয়ে পড়া ও মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছিল, যা এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। এর আগেও প্রশাসন একই কারখানায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও কারাদণ্ড প্রদানসহ কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা তা অমান্য করে রাতের আঁধারে পুনরায় উৎপাদন চালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিষয়টি নজরে এলে মঙ্গলবার আবারও অভিযান চালিয়ে এক্সাভেটরের মাধ্যমে পুরো কারখানাটি গুড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে সেখানে আর কোনো ধরনের কার্যক্রম চালানো না যায়। জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রাসেল নোমান বলেন, সীসা দূষণ জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও প্রাণিসম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি এবং এ ধরনের অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক কে.এম রাফসান রাব্বি জানান, কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা উৎপাদন করা হচ্ছিল, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও বেআইনি। তাই আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে কারখানাটি গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। প্রশাসনের এ পদক্ষেপে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে এবং তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার আশা করছেন।