নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত সময় কাজ করা মানুষের জীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় কাজের চাপে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ স্ট্রোক ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন। বিশেষ করে যারা সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় কাজ করেন, তাদের অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি সাধারণ কর্মীদের তুলনায় অনেক বেশি।
গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০১৬ সালে অতিরিক্ত কাজের ফলে সৃষ্ট শারীরিক জটিলতায় বিশ্বজুড়ে প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জাপানে এই প্রবণতাকে ‘কারোশি’ বলা হয়, যার আক্ষরিক অর্থ অতিরিক্ত পরিশ্রমে মৃত্যু। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় কাজের ফলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং মানসিক অবসাদ দেখা দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানুষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা মহামারির পর বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত কাজের প্রবণতা আরও বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে লকডাউনের সময় কর্মঘণ্টা প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে কাজের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং শরীরচর্চার কোনো বিকল্প নেই। কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপ কমানো না গেলে এই অকাল মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























