ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

নেপালে জেন-জি প্রজন্মের রাজনৈতিক উত্থান: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কেন এই বৈপরীত্য?

নেপালের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে ‘জেন-জি’ বা তরুণ প্রজন্মের অভূতপূর্ব উত্থান ঘটেছে। গত মাসে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বালেন্দ্র শাহের অভিষেক এবং সংসদে তরুণ আইনপ্রণেতাদের সরব উপস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ায় এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। তবে নেপালের এই সাফল্য বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে কিছুটা হতাশ করেছে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালে তরুণদের নেতৃত্বে বড় ধরনের গণবিক্ষোভের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হলেও, তারা এখনো শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, নেপালের রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) মাত্র চার বছরে যে সাফল্য দেখিয়েছে, তার মূলে ছিল সাধারণ মানুষের সঙ্গে আন্দোলনের গভীর সংযোগ এবং নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা। নেপালের তরুণ নেতারা বারবার জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচারের কথা বলে মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) প্রথম নির্বাচনে আশানুরূপ ফল করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর আধিপত্যই বজায় রয়েছে।

নেপালের এই সাফল্যের গল্পটি এশিয়ায় এক বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যেখানে অনেক দেশেই তরুণদের আন্দোলন শুরু হলেও ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছাতে তারা ব্যর্থ হয়, সেখানে নেপালের তরুণরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি নেতৃত্বে চলে এসেছে। বাংলাদেশের তরুণ আন্দোলনকর্মীরা মনে করছেন, নেপালের মতো নিজেদের সংগঠিত করতে না পারা এবং রাজনৈতিক কৌশলের অভাবেই তারা এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারেননি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার: বাড়ছে জালিয়াতি ও সাইবার অপরাধের ঝুঁকি

নেপালে জেন-জি প্রজন্মের রাজনৈতিক উত্থান: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কেন এই বৈপরীত্য?

আপডেট সময় : ০২:২২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

নেপালের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে ‘জেন-জি’ বা তরুণ প্রজন্মের অভূতপূর্ব উত্থান ঘটেছে। গত মাসে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বালেন্দ্র শাহের অভিষেক এবং সংসদে তরুণ আইনপ্রণেতাদের সরব উপস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ায় এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। তবে নেপালের এই সাফল্য বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে কিছুটা হতাশ করেছে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালে তরুণদের নেতৃত্বে বড় ধরনের গণবিক্ষোভের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হলেও, তারা এখনো শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, নেপালের রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) মাত্র চার বছরে যে সাফল্য দেখিয়েছে, তার মূলে ছিল সাধারণ মানুষের সঙ্গে আন্দোলনের গভীর সংযোগ এবং নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা। নেপালের তরুণ নেতারা বারবার জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচারের কথা বলে মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) প্রথম নির্বাচনে আশানুরূপ ফল করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর আধিপত্যই বজায় রয়েছে।

নেপালের এই সাফল্যের গল্পটি এশিয়ায় এক বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যেখানে অনেক দেশেই তরুণদের আন্দোলন শুরু হলেও ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছাতে তারা ব্যর্থ হয়, সেখানে নেপালের তরুণরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি নেতৃত্বে চলে এসেছে। বাংলাদেশের তরুণ আন্দোলনকর্মীরা মনে করছেন, নেপালের মতো নিজেদের সংগঠিত করতে না পারা এবং রাজনৈতিক কৌশলের অভাবেই তারা এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারেননি।