জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের অষ্টম দিনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল পাল্টাপাল্টি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। গত রোববার (৫ এপ্রিল) নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের আনা এক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারি দল স্পষ্ট জানিয়েছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধানের বাইরে কোনো পৃথক ‘সংস্কার পরিষদ’ গঠনের প্রয়োজন নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সংবিধানের কোনো ‘সংস্কার’ হয় না, বরং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন কেবল সংসদীয় সংশোধনীর মাধ্যমেই সম্ভব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা নির্ধারণে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যেখানে সরকারি, বিরোধী ও স্বতন্ত্র সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে।
অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান গত ৫৪ বছরে ফ্যাসিবাদের জন্ম দেওয়া সাংবিধানিক ধারাগুলোর আমূল সংস্কারের দাবি তুলেছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্তমান সংসদের সদস্যরা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েই নির্বাচিত হয়েছেন। বিরোধী দলের দাবি, জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায় অনুযায়ী একটি স্বতন্ত্র সংস্কার পরিষদ গঠন করা ছিল একটি পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক সমঝোতা। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আকতার হোসেন অভিযোগ করেছেন, জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য ছাড়াই বিশেষ ‘নোট’ অন্তর্ভুক্ত করে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে এবং বিএনপি এখন তাদের আগের অবস্থান থেকে পিছিয়ে গিয়ে ‘স্মৃতিবিস্মৃতির’ পরিচয় দিচ্ছে।
সরকারি জোটের অন্যতম শরিক ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ অবশ্য ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিয়ে বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের ওপর ভিত্তি করেই এই সংসদ গঠিত হয়েছে, তাই তাদের দাবির প্রতি সরকারকে আরও ধৈর্যশীল হতে হবে। তবে তিনিও সংবিধানের রীতিনীতি মেনেই সংশোধনের পক্ষে মত দেন। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জোর দিয়ে বলেন, বিদ্যমান সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ীই যেকোনো পরিবর্তন আনতে হবে এবং সংসদকে পাশ কাটিয়ে অন্য কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে ‘সংবিধানের ওপর প্রতারণা’। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের এই আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই এখন সংসদের গণ্ডি পেরিয়ে রাজপথের বিতর্কেও রূপ নিচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























