ঢাকা ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ভূ-রাজনীতিতে তেলের প্রভাব: ১৯৭৩ থেকে ২০২৬, এখনো অমোঘ ‘জ্বালানি অস্ত্র’

বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে জ্বালানি তেল কেবল একটি প্রয়োজনীয় পণ্য নয়, বরং এটি বারবার একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ১৯৭৩ সালের অক্টোবর যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আরব দেশগুলো যখন ইসরায়েলপন্থী দেশগুলোর ওপর জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, তখন বিশ্ব অর্থনীতি এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়ে। সেই সময় তেলের দাম চারগুণ বেড়ে যাওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিল। ইতিহাসের সেই ঘটনার প্রায় ৫৩ বছর পর ২০২৬ সালে এসেও বিশ্ব রাজনীতিতে ‘তেল অস্ত্র’ এর কার্যকারিতা পুনরায় দৃশ্যমান হচ্ছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ইরান এই পুরোনো কৌশলকে নতুন আঙ্গিকে ব্যবহার করছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল সীমিত করার মাধ্যমে তারা নিজস্ব ঢঙে এক ধরনের জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। ইরানের এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমে গেছে এবং দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সংকটের প্রভাব এতটাই গভীর যে, খোদ মার্কিন প্রশাসনকেও তাদের কঠোর অবস্থান থেকে পিছু হটতে দেখা গেছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর থেকে তেল বিক্রির নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের মতে, বাজার স্থিতিশীল করতে প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হবে। জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, শত্রুভাবাপন্ন দেশের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া স্পষ্ট করে দেয় যে, জ্বালানি সংকটের মুখে উন্নত বিশ্বের হাতে বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই। ১৯৭৩ সালের সেই ঐতিহাসিক নিষেধাজ্ঞা যেমন বিশ্বব্যবস্থাকে বদলে দিয়েছিল, বর্তমানের এই জ্বালানি রাজনীতিও বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খেলার সময়সূচি: টিভির পর্দায় আজ যেসব খেলা দেখবেন

ভূ-রাজনীতিতে তেলের প্রভাব: ১৯৭৩ থেকে ২০২৬, এখনো অমোঘ ‘জ্বালানি অস্ত্র’

আপডেট সময় : ০৯:৫৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে জ্বালানি তেল কেবল একটি প্রয়োজনীয় পণ্য নয়, বরং এটি বারবার একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ১৯৭৩ সালের অক্টোবর যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আরব দেশগুলো যখন ইসরায়েলপন্থী দেশগুলোর ওপর জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, তখন বিশ্ব অর্থনীতি এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়ে। সেই সময় তেলের দাম চারগুণ বেড়ে যাওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিল। ইতিহাসের সেই ঘটনার প্রায় ৫৩ বছর পর ২০২৬ সালে এসেও বিশ্ব রাজনীতিতে ‘তেল অস্ত্র’ এর কার্যকারিতা পুনরায় দৃশ্যমান হচ্ছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ইরান এই পুরোনো কৌশলকে নতুন আঙ্গিকে ব্যবহার করছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল সীমিত করার মাধ্যমে তারা নিজস্ব ঢঙে এক ধরনের জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। ইরানের এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমে গেছে এবং দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সংকটের প্রভাব এতটাই গভীর যে, খোদ মার্কিন প্রশাসনকেও তাদের কঠোর অবস্থান থেকে পিছু হটতে দেখা গেছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর থেকে তেল বিক্রির নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের মতে, বাজার স্থিতিশীল করতে প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হবে। জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, শত্রুভাবাপন্ন দেশের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া স্পষ্ট করে দেয় যে, জ্বালানি সংকটের মুখে উন্নত বিশ্বের হাতে বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই। ১৯৭৩ সালের সেই ঐতিহাসিক নিষেধাজ্ঞা যেমন বিশ্বব্যবস্থাকে বদলে দিয়েছিল, বর্তমানের এই জ্বালানি রাজনীতিও বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করছে।