ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার নতুন করে চালানো হামলায় অন্তত ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনজুড়ে রুশ হামলায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। খারকিভ অঞ্চলের গভর্নর জানিয়েছেন, খারকিভ শহরসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ১১টি শহর ও গ্রামে হামলায় অন্তত চারজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। সুমি অঞ্চলেও রাতের ড্রোন হামলায় অন্তত ১১ জন আহত হন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নিকোপোল শহরের একটি বাজারে ড্রোন হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া দোনেৎস্ক অঞ্চলে গত একদিনে ছয়জন নিহত এবং আরও ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে ছোড়া ২৮৬টি ড্রোনের মধ্যে ২৬০টি ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তবে কিছু ড্রোন বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানে এবং ধ্বংসাবশেষও একাধিক জায়গায় পড়ে। অন্যদিকে, রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। তাগানরগ শহরের একটি বাণিজ্যিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করলে আগুন ধরে যায়, পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আজভ সাগরে একটি বিদেশি কার্গো জাহাজে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে।
যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তেমন অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। আবুধাবি ও জেনেভায় একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হলেও পূর্ব ইউক্রেনের ভূখণ্ডসংক্রান্ত বিষয়ে কোনো সমাধান আসেনি। নির্ধারিত পরবর্তী বৈঠকও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে স্থগিত করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে ইস্তাম্বুলে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, কৃষ্ণসাগরের সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তুরস্ক আলোচনায় সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 



















