ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

গবেষকদের উদ্ভাবন: উচ্চফলনশীল আউশ ধানের নতুন জাত ‘জিএইউ-৪’

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) গবেষকরা উচ্চফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি এবং চিকন দানার আউশ ধানের নতুন জাত ‘জিএইউ ধান-৪’ উদ্ভাবন করেছেন। প্রায় এক দশকের গবেষণা ও পরীক্ষার পর সম্প্রতি জাতটি জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন পেয়েছে। উদ্ভাবকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই নতুন জাত কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এম ময়নুল হক ও মসিউল ইসলামের নেতৃত্বে গবেষকদল এই নতুন ধানের জাতটি উদ্ভাবন করেছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত ধানের জাতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারটিতে এবং মোট উদ্ভাবিত ফসলের জাতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫টিতে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশে সাধারণত আউশ ধানের ফলন আমন ও বোরো মৌসুমের তুলনায় কম হয়। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, নতুন ‘জিএইউ ধান-৪’ জাতটি এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম। এই জাতটি স্বল্প সময়ের মধ্যে পরিপক্ব হওয়ায় কৃষকরা দ্রুত জমি খালি করে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের মঙ্গাপীড়িত এলাকায় এটি নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।

গবেষণা সূত্রে জানা গেছে, প্রচলিত আউশ ধান ‘পারিজা’ এবং উচ্চফলনশীল চিকন জাত ‘বিইউ ধান-২’-এর সংকরায়নের মাধ্যমে নতুন জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। দীর্ঘ গবেষণা ও নির্বাচনের পর ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা শেষে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় ‘জিএইউ ধান-৪’ জাতের অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন এই ধানের চাল পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এতে অ্যামাইলেজ এনজাইমের পরিমাণ প্রায় ২৪.৫৮ শতাংশ এবং প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ৮.৩৮ শতাংশ, যা সহজে হজমযোগ্য এবং মানবদেহের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক। দানা লম্বা ও চিকন হওয়ায় এটি দেখতে আকর্ষণীয়। বীজ বপনের ৯০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে ফসল কাটা যায়। অনুকূল পরিবেশে প্রতি হেক্টরে পাঁচ থেকে ৫.৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। প্রতি হেক্টরে ২৫-৩০ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়, যা কৃষকের জন্য ব্যয়সাশ্রয়ী।

গবেষকরা আরও জানান, ‘জিএইউ-৪’ জাতটি রোগবালাই প্রতিরোধী এবং সাধারণ জাতের তুলনায় গড়ে ১০-১৫ শতাংশ বেশি ফলন দিতে সক্ষম। পাশাপাশি, কম পানি প্রয়োজন হওয়ায় এটি জলবায়ু সহনশীল এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষের উপযোগী। উদ্ভাবক ড. মসিউল ইসলাম বলেন, কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল এই জাত উদ্ভাবনের মূল লক্ষ্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

গবেষকদের উদ্ভাবন: উচ্চফলনশীল আউশ ধানের নতুন জাত ‘জিএইউ-৪’

আপডেট সময় : ১১:২৭:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) গবেষকরা উচ্চফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি এবং চিকন দানার আউশ ধানের নতুন জাত ‘জিএইউ ধান-৪’ উদ্ভাবন করেছেন। প্রায় এক দশকের গবেষণা ও পরীক্ষার পর সম্প্রতি জাতটি জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন পেয়েছে। উদ্ভাবকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই নতুন জাত কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এম ময়নুল হক ও মসিউল ইসলামের নেতৃত্বে গবেষকদল এই নতুন ধানের জাতটি উদ্ভাবন করেছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত ধানের জাতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারটিতে এবং মোট উদ্ভাবিত ফসলের জাতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫টিতে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশে সাধারণত আউশ ধানের ফলন আমন ও বোরো মৌসুমের তুলনায় কম হয়। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, নতুন ‘জিএইউ ধান-৪’ জাতটি এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম। এই জাতটি স্বল্প সময়ের মধ্যে পরিপক্ব হওয়ায় কৃষকরা দ্রুত জমি খালি করে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের মঙ্গাপীড়িত এলাকায় এটি নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।

গবেষণা সূত্রে জানা গেছে, প্রচলিত আউশ ধান ‘পারিজা’ এবং উচ্চফলনশীল চিকন জাত ‘বিইউ ধান-২’-এর সংকরায়নের মাধ্যমে নতুন জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। দীর্ঘ গবেষণা ও নির্বাচনের পর ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা শেষে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় ‘জিএইউ ধান-৪’ জাতের অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন এই ধানের চাল পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এতে অ্যামাইলেজ এনজাইমের পরিমাণ প্রায় ২৪.৫৮ শতাংশ এবং প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ৮.৩৮ শতাংশ, যা সহজে হজমযোগ্য এবং মানবদেহের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক। দানা লম্বা ও চিকন হওয়ায় এটি দেখতে আকর্ষণীয়। বীজ বপনের ৯০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে ফসল কাটা যায়। অনুকূল পরিবেশে প্রতি হেক্টরে পাঁচ থেকে ৫.৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। প্রতি হেক্টরে ২৫-৩০ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়, যা কৃষকের জন্য ব্যয়সাশ্রয়ী।

গবেষকরা আরও জানান, ‘জিএইউ-৪’ জাতটি রোগবালাই প্রতিরোধী এবং সাধারণ জাতের তুলনায় গড়ে ১০-১৫ শতাংশ বেশি ফলন দিতে সক্ষম। পাশাপাশি, কম পানি প্রয়োজন হওয়ায় এটি জলবায়ু সহনশীল এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষের উপযোগী। উদ্ভাবক ড. মসিউল ইসলাম বলেন, কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল এই জাত উদ্ভাবনের মূল লক্ষ্য।