চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার যুবাইদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার নিবেদিতপ্রাণ অধ্যক্ষ মাওলানা নুরুল কবির মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হলেও পরিবারের পক্ষে তা বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। এমতাবস্থায়, সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন তার পরিবার ও সহকর্মীরা।
জানা গেছে, ১৯৯০ সাল থেকে অধ্যক্ষ নুরুল কবির যুবাইদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার অক্লান্ত পরিশ্রম, সততা ও দূরদর্শিতার ফলে একটি ছোট ফোরকানিয়া মাদ্রাসা আজ ফাজিল পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে উন্নীত হয়েছে। নারী শিক্ষার প্রসারে তার অবদান এলাকায় বিশেষভাবে প্রশংসিত। সহকর্মীদের মতে, তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক ও কর্মঠ শিক্ষক হিসেবে সুপরিচিত, যিনি ব্যক্তিগত জীবনকে উপেক্ষা করে সবসময় প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এমনকি অসুস্থতার মধ্যেও তিনি মাদ্রাসার খোঁজ-খবর নিতে আগ্রহী ছিলেন।
অধ্যক্ষের বড় ছেলে শাকিব বিন কবির জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে নন-হজকিন লিম্ফোমা (রক্তের ক্যান্সার) রোগে ভুগছেন এবং ইতোমধ্যে চারবার রোগটি পুনরায় ফিরে এসেছে। দেশ-বিদেশে, বিশেষ করে ভারতে চিকিৎসা গ্রহণ করেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি। এ পর্যন্ত চিকিৎসা ব্যয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে।
বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাকে সুস্থ করতে জরুরি ভিত্তিতে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট প্রয়োজন, যার জন্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হবে। ইতোমধ্যে কেমোথেরাপি চলমান থাকলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য এই ট্রান্সপ্লান্ট অপরিহার্য। মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অধ্যক্ষ নুরুল কবির স্যার তার পুরো জীবনটাই শিক্ষা বিস্তারে উৎসর্গ করেছেন। আজ তিনি কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবনযুদ্ধ লড়ছেন। তাকে বাঁচাতে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
অধ্যক্ষ নুরুল কবির আবেগঘন কণ্ঠে জানান, জীবনের শেষ সময়টুকুও তিনি তার প্রিয় মাদ্রাসার সান্নিধ্যে কাটাতে চান। মৃত্যুর পর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণেই দাফন করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
রিপোর্টারের নাম 

























