ঢাকা ০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

এমপির হস্তক্ষেপে শান্ত ফরিদপুরের ভাঙ্গা: ফুটবল নিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মুনসুরাবাদ এলাকায় ফুটবল খেলার প্রচারণা নিয়ে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে প্রথম দফায় সংঘর্ষের পর শনিবার সকালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে একই ইউনিয়নের চারটি গ্রামবাসীর মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলে।

সংঘর্ষে শত শত গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। মাঝিকান্দা, সিঙারিয়া ও খাপুুুড়া—এই তিন গ্রামের নেতৃত্বে ছিলেন সেকেন্দার, সাধু ও আসাদ মেম্বর। অন্যদিকে, মুনসুরাবাদ গ্রামের বাবর আলী, আকরাম ও আলম মেম্বর তাদের পক্ষের লোকজনকে নেতৃত্ব দেন। অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় তিন ঘণ্টা দেরি করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও উত্তেজনা চরমে থাকায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়।

অবশেষে, স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে এবং উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতায় চার গ্রামের লোকজন সংঘর্ষ এলাকা থেকে পিছু হটতে শুরু করে। র‍্যাব, পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে চার গ্রামের জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে উত্তেজিত গ্রামবাসীদের সংঘর্ষ থেকে নিবৃত্ত করতে সক্ষম হয়।

সংঘর্ষে আহতদের জেলা সদর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত শওকত আলীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত জাহিদ, রেজাউল, ছিরু মিয়াকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সংঘর্ষ চলাকালে মুনসুরাবাদ বাজারের বেশ কিছু দোকানঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। চার গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রাস্তায় নেমে আসে এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর ও লুটপাটের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দিনের সংঘর্ষে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মুন্সীগঞ্জ বার নির্বাচনে ১১ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

এমপির হস্তক্ষেপে শান্ত ফরিদপুরের ভাঙ্গা: ফুটবল নিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ

আপডেট সময় : ০৩:৪১:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মুনসুরাবাদ এলাকায় ফুটবল খেলার প্রচারণা নিয়ে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে প্রথম দফায় সংঘর্ষের পর শনিবার সকালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে একই ইউনিয়নের চারটি গ্রামবাসীর মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলে।

সংঘর্ষে শত শত গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। মাঝিকান্দা, সিঙারিয়া ও খাপুুুড়া—এই তিন গ্রামের নেতৃত্বে ছিলেন সেকেন্দার, সাধু ও আসাদ মেম্বর। অন্যদিকে, মুনসুরাবাদ গ্রামের বাবর আলী, আকরাম ও আলম মেম্বর তাদের পক্ষের লোকজনকে নেতৃত্ব দেন। অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় তিন ঘণ্টা দেরি করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও উত্তেজনা চরমে থাকায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়।

অবশেষে, স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে এবং উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতায় চার গ্রামের লোকজন সংঘর্ষ এলাকা থেকে পিছু হটতে শুরু করে। র‍্যাব, পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে চার গ্রামের জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে উত্তেজিত গ্রামবাসীদের সংঘর্ষ থেকে নিবৃত্ত করতে সক্ষম হয়।

সংঘর্ষে আহতদের জেলা সদর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত শওকত আলীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত জাহিদ, রেজাউল, ছিরু মিয়াকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সংঘর্ষ চলাকালে মুনসুরাবাদ বাজারের বেশ কিছু দোকানঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। চার গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রাস্তায় নেমে আসে এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর ও লুটপাটের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দিনের সংঘর্ষে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।