ঢাকা ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

সাপাহারে সরকারি খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, নদী প্রবাহ বন্ধের আশঙ্কা

নওগাঁর সাপাহার-পত্নীতলা সীমান্তে অবস্থিত কুচিন্দা খাড়ি দখল করে অবৈধভাবে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সাপাহার-আগ্রাদ্বিগুণ সড়কের কুচিন্দা ব্রিজের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে খাঁড়ির জায়গা দখল করে এই নির্মাণকাজ চলায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে বর্ষা মৌসুমে অন্তত সাত-আটটি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে।

শনিবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, কুচিন্দা ব্রিজের দুপাশে খাঁড়ির জমিতে কংক্রিটের পিলার স্থাপন এবং ঢালাই দিয়ে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই খাঁড়ি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পত্নীতলা ও সাপাহার উপজেলার বৃষ্টির পানি ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এই খাঁড়ি দিয়েই প্রবাহিত হয়। বর্তমানে যেভাবে দখল করে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, তাতে পানির স্বাভাবিক গতিপথ সরু হয়ে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক মো. রহিম উদ্দিন বলেন, এই খাঁড়ি আমাদের এলাকার জীবনরেখা। বর্ষাকালে ভারতের পানি এবং আমাদের মাঠের পানি এই পথ দিয়েই নিষ্কাশিত হয়। এখন যদি খাঁড়ি বন্ধ করে ঘর তৈরি করা হয়, তবে আমাদের আবাদি জমি যেমন ডুবে যাবে, তেমনি বাড়িঘরেও পানি উঠবে। আমরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল জলিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি জায়গা এভাবে মগের মুল্লুকের মতো দখল করে ভবন তৈরি হচ্ছে, অথচ দেখার কেউ নেই। প্রভাবশালীরা খালের ওপর কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে পানির পথ আটকে দিচ্ছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে আগামী বর্ষায় এই এলাকার সাত-আটটি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে, অবৈধ দখলের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকরা বাধার মুখে পড়েন। সাপাহার প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি সাংবাদিক তছলিম উদ্দীনের সঙ্গে খাঁড়ি দখলকারী ব্যক্তি অত্যন্ত অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ আচরণ করেন। তথ্য সংগ্রহের সময় তাকে বাধা প্রদান এবং কটাক্ষ করা হয়।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাপাহার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক বাবুল আকতার বলেন, একজন পেশাদার সাংবাদিকের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা অবিলম্বে দখলকারীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খাড়ির প্রবাহ স্বাভাবিক করার জোর দাবি জানাই।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সাপাহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ জানান, সরকারি খাঁড়ি বা খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি তিনি অবগত আছেন এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মুন্সীগঞ্জ বার নির্বাচনে ১১ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

সাপাহারে সরকারি খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, নদী প্রবাহ বন্ধের আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০২:৩৪:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

নওগাঁর সাপাহার-পত্নীতলা সীমান্তে অবস্থিত কুচিন্দা খাড়ি দখল করে অবৈধভাবে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সাপাহার-আগ্রাদ্বিগুণ সড়কের কুচিন্দা ব্রিজের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে খাঁড়ির জায়গা দখল করে এই নির্মাণকাজ চলায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে বর্ষা মৌসুমে অন্তত সাত-আটটি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে।

শনিবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, কুচিন্দা ব্রিজের দুপাশে খাঁড়ির জমিতে কংক্রিটের পিলার স্থাপন এবং ঢালাই দিয়ে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই খাঁড়ি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পত্নীতলা ও সাপাহার উপজেলার বৃষ্টির পানি ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এই খাঁড়ি দিয়েই প্রবাহিত হয়। বর্তমানে যেভাবে দখল করে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, তাতে পানির স্বাভাবিক গতিপথ সরু হয়ে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক মো. রহিম উদ্দিন বলেন, এই খাঁড়ি আমাদের এলাকার জীবনরেখা। বর্ষাকালে ভারতের পানি এবং আমাদের মাঠের পানি এই পথ দিয়েই নিষ্কাশিত হয়। এখন যদি খাঁড়ি বন্ধ করে ঘর তৈরি করা হয়, তবে আমাদের আবাদি জমি যেমন ডুবে যাবে, তেমনি বাড়িঘরেও পানি উঠবে। আমরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল জলিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি জায়গা এভাবে মগের মুল্লুকের মতো দখল করে ভবন তৈরি হচ্ছে, অথচ দেখার কেউ নেই। প্রভাবশালীরা খালের ওপর কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে পানির পথ আটকে দিচ্ছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে আগামী বর্ষায় এই এলাকার সাত-আটটি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে, অবৈধ দখলের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকরা বাধার মুখে পড়েন। সাপাহার প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি সাংবাদিক তছলিম উদ্দীনের সঙ্গে খাঁড়ি দখলকারী ব্যক্তি অত্যন্ত অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ আচরণ করেন। তথ্য সংগ্রহের সময় তাকে বাধা প্রদান এবং কটাক্ষ করা হয়।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাপাহার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক বাবুল আকতার বলেন, একজন পেশাদার সাংবাদিকের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা অবিলম্বে দখলকারীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খাড়ির প্রবাহ স্বাভাবিক করার জোর দাবি জানাই।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সাপাহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ জানান, সরকারি খাঁড়ি বা খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি তিনি অবগত আছেন এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।