ঢাকা ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ভারতীয় তোষণ ও ইসলামোফোবিয়ার অভিযোগে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী অস্তিত্ব সংকটে

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ‘প্রগতিশীলতার’ আড়ালে ভারতীয় ন্যারেটিভ ও ইসলামোফোবিয়া ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত ‘বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী’ বর্তমানে গভীর অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। চলতি বছরের ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্যারিকেচার প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে।

চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে শত শত শিক্ষার্থী, শিশু ও শ্রমজীবী মানুষকে হত্যার ঘটনার পরও উদীচীর একটি অংশ ‘হাসিনা-তোষণ’ এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় সংগঠনটি এখন খণ্ডবিখণ্ড হয়ে পতনের দ্বারপ্রান্তে।

১৯৬৮ সালে সত্যেন সেন ও রণেশ দাশগুপ্তের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত উদীচী প্রগতিশীলতার কথা বললেও অনেকের মতে এটি বাংলাদেশে ভারতীয় সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের একটি ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে কাজ করে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত ১৬ বছরের আওয়ামী শাসনামলে উদীচী সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার বা রাষ্ট্রীয় ও দলীয় জুলুমের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলেনি। বরং ‘অসাম্প্রদায়িকতার’ দোহাই দিয়ে তারা এমন বামপন্থা চর্চা করেছে যা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত করেছে এবং দিল্লির প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ‘ইসলামোফোবিয়া’ বা ইসলামভীতি ছড়িয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শেখ ওমর আমার দেশকে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার যখন হাজারো ছাত্র-জনতাকে নির্বিচারে হত্যা করছিল, তখন উদীচীর একটি বড় অংশ রহস্যজনকভাবে নীরব ছিল। এই বামপন্থীরা জুলাই গণহত্যার ভয়াবহতাকে ছোট করে দেখতে চায়। তাদের কাছে হাসিনার ‘সেক্যুলার’ ইমেজটি এতই প্রিয় যে, হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আসা পরিবর্তনকেও তারা ‘সাম্প্রদায়িক উত্থান’ হিসেবে চিত্রায়িত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এটি তাদের পক্ষপাতদুষ্ট ও গণবিরোধী চরিত্রের নগ্ন প্রকাশ।

গত ২৫ মার্চ রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসংলগ্ন এলাকায় উদীচীর (মাহমুদ সেলিম-অমিত রঞ্জন দে অংশ) আয়োজিত অনুষ্ঠানে একটি চিত্রপ্রদর্শনী ও পথনাটকের আয়োজন করা হয়। সেখানে ভারতে পলাতক শেখ হাসিনাকে ‘দানবীয়’ রূপে ফুটিয়ে তোলা রাজনৈতিক ক্যারিকেচার প্রদর্শন করা হয়, যা সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিভেদকে আরও উস্কে দেয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাম্পে তেল নেই, জমিতে পানি নেই: রংপুরের বোরো ক্ষেত ফেটে চৌচির, দিশেহারা কৃষক

ভারতীয় তোষণ ও ইসলামোফোবিয়ার অভিযোগে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী অস্তিত্ব সংকটে

আপডেট সময় : ০৯:৫১:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ‘প্রগতিশীলতার’ আড়ালে ভারতীয় ন্যারেটিভ ও ইসলামোফোবিয়া ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত ‘বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী’ বর্তমানে গভীর অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। চলতি বছরের ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্যারিকেচার প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে।

চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে শত শত শিক্ষার্থী, শিশু ও শ্রমজীবী মানুষকে হত্যার ঘটনার পরও উদীচীর একটি অংশ ‘হাসিনা-তোষণ’ এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় সংগঠনটি এখন খণ্ডবিখণ্ড হয়ে পতনের দ্বারপ্রান্তে।

১৯৬৮ সালে সত্যেন সেন ও রণেশ দাশগুপ্তের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত উদীচী প্রগতিশীলতার কথা বললেও অনেকের মতে এটি বাংলাদেশে ভারতীয় সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের একটি ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে কাজ করে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত ১৬ বছরের আওয়ামী শাসনামলে উদীচী সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার বা রাষ্ট্রীয় ও দলীয় জুলুমের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলেনি। বরং ‘অসাম্প্রদায়িকতার’ দোহাই দিয়ে তারা এমন বামপন্থা চর্চা করেছে যা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত করেছে এবং দিল্লির প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ‘ইসলামোফোবিয়া’ বা ইসলামভীতি ছড়িয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শেখ ওমর আমার দেশকে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার যখন হাজারো ছাত্র-জনতাকে নির্বিচারে হত্যা করছিল, তখন উদীচীর একটি বড় অংশ রহস্যজনকভাবে নীরব ছিল। এই বামপন্থীরা জুলাই গণহত্যার ভয়াবহতাকে ছোট করে দেখতে চায়। তাদের কাছে হাসিনার ‘সেক্যুলার’ ইমেজটি এতই প্রিয় যে, হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আসা পরিবর্তনকেও তারা ‘সাম্প্রদায়িক উত্থান’ হিসেবে চিত্রায়িত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এটি তাদের পক্ষপাতদুষ্ট ও গণবিরোধী চরিত্রের নগ্ন প্রকাশ।

গত ২৫ মার্চ রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসংলগ্ন এলাকায় উদীচীর (মাহমুদ সেলিম-অমিত রঞ্জন দে অংশ) আয়োজিত অনুষ্ঠানে একটি চিত্রপ্রদর্শনী ও পথনাটকের আয়োজন করা হয়। সেখানে ভারতে পলাতক শেখ হাসিনাকে ‘দানবীয়’ রূপে ফুটিয়ে তোলা রাজনৈতিক ক্যারিকেচার প্রদর্শন করা হয়, যা সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিভেদকে আরও উস্কে দেয়।