ঢাকা ০৬:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত গ্রামে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে ‘অদম্য কুড়িগ্রাম গ্রন্থাগার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রণজিতেশ্বর গ্রামের সবুজ শ্যামল প্রকৃতির মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে ‘অদম্য কুড়িগ্রাম গ্রন্থাগার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’। কৃষকের হাসিতে ভরা এই গ্রামের পরিবেশের মধ্যেই শিশুদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এই পাঠাগার।

প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে একদল খুদে পাঠক এখানে আসে। টেবিলে সাজানো গল্পের বই, দেয়ালে সারি সারি উপন্যাস, জীবনী ও কবিতার বই। পাঠাগারে ঢুকলেই চোখে পড়ে বই হাতে কিছু তরুণ, যারা ছোটদের বই বাছাইয়ে সাহায্য করে। শিশুরা এখানে মজার গল্প পড়ে, রঙিন ছবিতে ডুবে থাকে এবং নতুন শব্দ শেখে।

স্থানীয় তরুণরা নিয়মিতভাবে এখানে নানা ধরনের সৃজনশীল প্রতিযোগিতা ও পাঠচক্রের আয়োজন করে। শিশুরা বইয়ের গল্পে অভিনয় করে আনন্দ পায়, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং সাংস্কৃতিক চেতনা গড়তে সাহায্য করে।

পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘আমার দেশ পাঠকমেলা কুড়িগ্রাম জেলা শাখা’র সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুবিন এবং ‘অদম্য কুড়িগ্রাম’-এর সভাপতি শাহ মো. সাকিফুজ্জামান সাকিফ। তাদের লক্ষ্য হলো শিশু-কিশোরদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ তৈরি করে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়া।

শাহ মো. সাকিফুজ্জামান সাকিফ বলেন, ‘অদম্য কুড়িগ্রামের এই উদ্যোগ তরুণদের চিন্তা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের বাহক হবে। আমরা এই পাঠাগার স্থাপন করেছি যাতে তারা পড়ালেখা ও সাংস্কৃতিক চর্চার দিকে ঝোঁকে। এই পাঠাগার প্রতিষ্ঠার পর থেকে তাদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখে আমরা উৎসাহ পাচ্ছি।’

মনিরুজ্জামান মুবিন বলেন, ‘দেশের সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে পাঠচর্চায় গ্রন্থাগার সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আমাদের এই পাঠাগারও তেমন ভূমিকা পালন করছে। স্থানীয় তরুণদের নিরলস পরিশ্রম, ইচ্ছাশক্তি ও স্বপ্নবাজ মনোভাবের ফলেই এই উদ্যোগ বাস্তব রূপ পেয়েছে। স্থানীয় জনগণও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে যুক্ত হয়েছেন।’

রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-ইমরান এই উদ্যোগকে ‘প্রশংসনীয়’ আখ্যা দিয়ে প্রশাসন থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। পাঠাগারে নিয়মিত শিশু থেকে প্রবীণ—সবাই আসেন, যা জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এই প্রয়াসকে আরও সমৃদ্ধ করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইরানকে দমানোর সক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র’

কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত গ্রামে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে ‘অদম্য কুড়িগ্রাম গ্রন্থাগার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’

আপডেট সময় : ০৪:৫০:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রণজিতেশ্বর গ্রামের সবুজ শ্যামল প্রকৃতির মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে ‘অদম্য কুড়িগ্রাম গ্রন্থাগার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’। কৃষকের হাসিতে ভরা এই গ্রামের পরিবেশের মধ্যেই শিশুদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এই পাঠাগার।

প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে একদল খুদে পাঠক এখানে আসে। টেবিলে সাজানো গল্পের বই, দেয়ালে সারি সারি উপন্যাস, জীবনী ও কবিতার বই। পাঠাগারে ঢুকলেই চোখে পড়ে বই হাতে কিছু তরুণ, যারা ছোটদের বই বাছাইয়ে সাহায্য করে। শিশুরা এখানে মজার গল্প পড়ে, রঙিন ছবিতে ডুবে থাকে এবং নতুন শব্দ শেখে।

স্থানীয় তরুণরা নিয়মিতভাবে এখানে নানা ধরনের সৃজনশীল প্রতিযোগিতা ও পাঠচক্রের আয়োজন করে। শিশুরা বইয়ের গল্পে অভিনয় করে আনন্দ পায়, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং সাংস্কৃতিক চেতনা গড়তে সাহায্য করে।

পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘আমার দেশ পাঠকমেলা কুড়িগ্রাম জেলা শাখা’র সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুবিন এবং ‘অদম্য কুড়িগ্রাম’-এর সভাপতি শাহ মো. সাকিফুজ্জামান সাকিফ। তাদের লক্ষ্য হলো শিশু-কিশোরদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ তৈরি করে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়া।

শাহ মো. সাকিফুজ্জামান সাকিফ বলেন, ‘অদম্য কুড়িগ্রামের এই উদ্যোগ তরুণদের চিন্তা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের বাহক হবে। আমরা এই পাঠাগার স্থাপন করেছি যাতে তারা পড়ালেখা ও সাংস্কৃতিক চর্চার দিকে ঝোঁকে। এই পাঠাগার প্রতিষ্ঠার পর থেকে তাদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখে আমরা উৎসাহ পাচ্ছি।’

মনিরুজ্জামান মুবিন বলেন, ‘দেশের সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে পাঠচর্চায় গ্রন্থাগার সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আমাদের এই পাঠাগারও তেমন ভূমিকা পালন করছে। স্থানীয় তরুণদের নিরলস পরিশ্রম, ইচ্ছাশক্তি ও স্বপ্নবাজ মনোভাবের ফলেই এই উদ্যোগ বাস্তব রূপ পেয়েছে। স্থানীয় জনগণও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে যুক্ত হয়েছেন।’

রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-ইমরান এই উদ্যোগকে ‘প্রশংসনীয়’ আখ্যা দিয়ে প্রশাসন থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। পাঠাগারে নিয়মিত শিশু থেকে প্রবীণ—সবাই আসেন, যা জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এই প্রয়াসকে আরও সমৃদ্ধ করছে।