যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় আকার ধারণ করে বিশ্বযুদ্ধে পরিণত হতে পারে কিনা, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই যুদ্ধ কেবল ইরানকেই প্রভাবিত করছে না, বরং সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, ওমান, আজারবাইজান, অধিকৃত পশ্চিম তীর, সাইপ্রাস, সিরিয়া, কাতার এবং লেবাননের মতো দেশগুলোও এর আওতায় এসেছে।
একটি আঞ্চলিক সংঘাত কখন বিশ্বযুদ্ধে রূপ নেয়, তা নিয়ে অধ্যাপক মার্গারেট ম্যাকমিলান বলেন, মানুষ প্রায়শই মনে করে যুদ্ধ সুপরিকল্পিতভাবে শুরু হয় এবং অংশগ্রহণকারীরা তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত থাকে। কিন্তু তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, অতীতের যুদ্ধগুলো, বিশেষ করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ দেখলে বোঝা যায়, অনেক সময় দুর্ঘটনা ও ভুল বোঝাবুঝির ফলেই সংঘাত বড় আকার ধারণ করে। এটিকে অনেকটা স্কুলের মাঠের ঝগড়ার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে, যেখানে ছোট ছোট ভুল বোঝাবুঝি বড় সংঘাতে রূপ নেয়।
অধ্যাপক ম্যাকমিলান ১৯১৪ সালের প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির সম্রাট ফ্রানৎস যোসেফের ভাতিজা আর্চডিউক ফ্রানৎস ফার্দিনান্দকে হত্যার ঘটনা যুদ্ধের সূচনা করেছিল। এরপর দ্রুত জোটবদ্ধ দেশগুলো একে অপরের পক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। জার্মানি অস্ট্রিয়াকে সমর্থন দেয়, রাশিয়া সার্বিয়ার পক্ষে সেনা মোতায়েন করে, ফ্রান্স রাশিয়াকে সমর্থন করে এবং ব্রিটেন সম্মান ও কৌশলগত কারণে যুদ্ধে যোগ দেয়। এর ফলস্বরূপ যা ঘটেছিল, তা এক ভয়াবহ বৈশ্বিক বিপর্যয়ে পরিণত হয়।
লন্ডনের কিংস কলেজের অধ্যাপক জো মাইওলো বিশ্বযুদ্ধকে সংজ্ঞায়িত করে বলেন, বিশ্বযুদ্ধ হলো এমন একটি সর্বাত্মক সংঘাত যেখানে সকল প্রধান শক্তিগুলো জড়িত থাকে। তিনি বলেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মূলত ইউরোপের সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো জড়িত ছিল, আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও চীন। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে অনেকেই আঞ্চলিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ বলে মনে করলেও, এই সংঘাত আরও বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























