ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এই ঐক্য বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে সংসদে বিরোধী দল হিসেবে দুই দল কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলেও সম্প্রতি এনসিপি ৫টি সিটি করপোরেশনে আলাদাভাবে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করায় এই আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ২৯ মার্চ রাতে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা উত্তরে আরিফুল ইসলাম আদিবসহ সিলেট, কুমিল্লা ও রাজশাহীতে নিজস্ব প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণার পর ধারণা করা হচ্ছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগত নয় বরং দলগুলো আলাদাভাবে নিজেদের শক্তি পরীক্ষা করতে চায়।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতিমধ্যে জানিয়েছেন যে, ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রামসহ মেয়াদোত্তীর্ণ সিটি করপোরেশনগুলোতে দ্রুততম সময়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরাও মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণে ড. আবদুল মান্নান ও ড. হেলাল উদ্দিন এবং উত্তরে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের নাম জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। এনসিপির প্রার্থী ঘোষণার বিষয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, তাদের জাতীয় নির্বাচন কেন্দ্রিক ঐক্য এখনও অটুট থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটবদ্ধ হওয়া নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তাই যে যার অবস্থান থেকে প্রার্থী ঘোষণা করতেই পারে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের মতে, যেহেতু জামায়াত এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাই তারাও নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তবে পরিস্থিতির প্রয়োজনে শেষ মুহূর্তে ১১ দলীয় জোট একসঙ্গে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। উল্লেখ্য, বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠনের পর দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনে বর্তমানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া আছে। সরকার পর্যায়ক্রমে এসব সিটিতে নির্বাচন দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যার ফলে বড় রাজনৈতিক দলগুলো এখন থেকেই প্রার্থী চূড়ান্ত ও মাঠ গোছানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























