মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের প্রায় পাঁচ বছর পর জেনারেল মিন অং হ্লাইং দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে চলেছেন। ২০২১ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি অং সান সু চি’র নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করার পর তিনি এক বছরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে দীর্ঘ সময় লেগেছে।
শুক্রবার নবনির্বাচিত সংসদ তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনীত করেছে। এই পদের জন্য তিনি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে এই বেসামরিক শাসন কেবল নামমাত্র। সামরিক অভ্যুত্থানের পর গঠিত এই সংসদ মূলত সামরিক বাহিনীর অনুগতদের নিয়েই গঠিত। সংবিধান অনুযায়ী সংরক্ষিত এক-চতুর্থাংশ আসন এবং নির্বাচনে সামরিক বাহিনীর দল ইউএসডিপি’র বিপুল জয় ফলাফলকে পূর্বনির্ধারিত করে তুলেছিল। এটিকে নির্বাচন না বলে এক প্রকার অভিষেক বলাই শ্রেয়।
নতুন সরকারেও সামরিক কর্মকর্তাদের প্রাধান্য বজায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিন অং হ্লাইংয়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র জেনারেল ইয়ে উইন উ’কে সামরিক বাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি তার কঠোরতা ও নিষ্ঠুরতার জন্য পরিচিত। এছাড়া, মিন অং হ্লাইং একটি পরামর্শদাতা পরিষদও গঠন করেছেন, যার হাতে বেসামরিক ও সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ ক্ষমতা থাকবে। এতে স্পষ্ট যে, সামরিক পোশাক পরিবর্তন করলেও ক্ষমতা যেন তার হাতেই থাকে, সে বিষয়ে জেনারেল হ্লাইং সচেষ্ট ছিলেন।
এই পরিস্থিতিতে তরুণ আন্দোলনকর্মী কিয়াও উইনের মতো অনেকেই পরিবর্তনের আশা হারিয়ে ফেলেছেন। ২০২২ সালের অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় তাকে গ্রেফতার করে এক সপ্তাহ ধরে নির্যাতন চালানো হয়েছিল। মুক্তির পর তিনি জানান, নির্যাতনের ভয়াবহতা তাকে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করেছে। তবুও বিপ্লবের প্রতি তার অঙ্গীকার অটুট রয়েছে, কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে তার মতো অনেকেই হতাশাগ্রস্ত।
রিপোর্টারের নাম 






















