ঢাকা ০১:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

দেশে শিশু টিকাদান কর্মসূচির অবনতি: জরুরি পদক্ষেপের দাবিতে নাগরিক সমাজের সভা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রমে সাম্প্রতিক অবনতি, বিপুলসংখ্যক শিশুর পূর্ণ টিকা থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং প্রতিরোধযোগ্য রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি প্রতিবাদ সভা করেছে ইয়াং উইমেন ফর ডেভলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট (ওয়াই ডাব্লিউ ডি আর সি)। বৃহস্পতিবার দেশের ৬টি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সভায় জানানো হয়, গত বছরে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির কার্যক্রম সরকারের গাফিলতির কারণে মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। টিকা সরবরাহে বিঘ্ন, মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট, আন্তর্জাতিক সহায়তা হ্রাস এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবার সীমিত পৌঁছানোর ফলে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলস্বরূপ, প্রায় ৪ লাখ শিশু পূর্ণ টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং প্রায় ৭০ হাজার শিশু একটিও টিকা পায়নি, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক গুরুতর হুমকি।

বক্তারা আরও জানান, হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগের পুনরুত্থান ঘটছে এবং শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, টিকাদান কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে প্রতি বছর প্রায় ৯৪,০০০ শিশুর জীবন রক্ষা সম্ভব—যা বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়াই ডাব্লিউ ডি আরসিয়ের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান সুলতানা নুসরাত আফরোজ। এতে আরও বক্তব্য দেন নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভিন পিপুল, হেলথ মুভমেন্টের নির্বাহী সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন, বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের সদস্য ড. সুলতান মোহাম্মদ রাজ্জাক, ফোরাম ফর কালচার এন্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের সভাপতি শাহেদা ওয়াহাব, ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এমপ্লয়ার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নাসিমা হক, সিলিডসের সদস্য সেলিনা আক্তার প্রমুখ।

সভায় বক্তারা সরকারের কাছে ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো: জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে পর্যাপ্ত বাজেট বৃদ্ধি ও টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা; মাঠপর্যায়ে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ জোরদার করা; বস্তি, দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকায় বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা; টিকা সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার (কোল্ড চেইন) উন্নয়ন করা; জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং টিকা বিষয়ে ভুল ধারণা দূরীকরণে কার্যকর প্রচারণা চালানো; এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে শক্তিশালী সহযোগিতা নিশ্চিত করা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে কৃষিজমি ধ্বংস করে অপরিকল্পিত পাথর উত্তোলন, উদ্বেগ পরিবেশবাদীদের

দেশে শিশু টিকাদান কর্মসূচির অবনতি: জরুরি পদক্ষেপের দাবিতে নাগরিক সমাজের সভা

আপডেট সময় : ০৭:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রমে সাম্প্রতিক অবনতি, বিপুলসংখ্যক শিশুর পূর্ণ টিকা থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং প্রতিরোধযোগ্য রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি প্রতিবাদ সভা করেছে ইয়াং উইমেন ফর ডেভলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট (ওয়াই ডাব্লিউ ডি আর সি)। বৃহস্পতিবার দেশের ৬টি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সভায় জানানো হয়, গত বছরে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির কার্যক্রম সরকারের গাফিলতির কারণে মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। টিকা সরবরাহে বিঘ্ন, মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট, আন্তর্জাতিক সহায়তা হ্রাস এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবার সীমিত পৌঁছানোর ফলে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলস্বরূপ, প্রায় ৪ লাখ শিশু পূর্ণ টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং প্রায় ৭০ হাজার শিশু একটিও টিকা পায়নি, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক গুরুতর হুমকি।

বক্তারা আরও জানান, হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগের পুনরুত্থান ঘটছে এবং শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, টিকাদান কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে প্রতি বছর প্রায় ৯৪,০০০ শিশুর জীবন রক্ষা সম্ভব—যা বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়াই ডাব্লিউ ডি আরসিয়ের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান সুলতানা নুসরাত আফরোজ। এতে আরও বক্তব্য দেন নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভিন পিপুল, হেলথ মুভমেন্টের নির্বাহী সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন, বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের সদস্য ড. সুলতান মোহাম্মদ রাজ্জাক, ফোরাম ফর কালচার এন্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের সভাপতি শাহেদা ওয়াহাব, ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এমপ্লয়ার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নাসিমা হক, সিলিডসের সদস্য সেলিনা আক্তার প্রমুখ।

সভায় বক্তারা সরকারের কাছে ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো: জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে পর্যাপ্ত বাজেট বৃদ্ধি ও টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা; মাঠপর্যায়ে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ জোরদার করা; বস্তি, দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকায় বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা; টিকা সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার (কোল্ড চেইন) উন্নয়ন করা; জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং টিকা বিষয়ে ভুল ধারণা দূরীকরণে কার্যকর প্রচারণা চালানো; এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে শক্তিশালী সহযোগিতা নিশ্চিত করা।