নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক অসহায় গৃহবধূকে জোরপূর্বক তার বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শবনম বেগম এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগকারী জানিয়েছেন, তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং ঘরের আসবাবপত্র ফেলে দেওয়ার সময় নগদ প্রায় ৫০ হাজার টাকাও লুট করা হয়েছে।
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, শবনম বেগম গত ২২ বছর ধরে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার সামনে সাহেবপাড়া ক্যান্টিন এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সম্প্রতি স্থানীয় বিএনপি নেতা হোসেন গুড্ডু ওই বাড়িটি রেলওয়ের সরকারি জায়গায় অবস্থিত দাবি করে তাকে এবং পাশের আরেকটি পরিবারকে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে শুরু করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত সোমবার বিকেলে হোসেন গুড্ডু তার সহযোগী শাহাবুল ইসলাম, আজাদ ও নাদিম রেজাসহ কয়েকজন শবনম বেগমের বাসায় গিয়ে তাকে বের হয়ে যেতে বলেন। এতে তিনি আপত্তি জানালে তাকে মারধর করা হয় এবং একপর্যায়ে ঘরের আসবাবপত্র বাইরে ফেলে দিয়ে বাড়িটি দখল করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
শবনম বেগম জানান, ‘আমি দীর্ঘ দিন ধরে এখানে ভাড়া থাকি। আমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এখন আমার থাকার কোনো জায়গা নেই।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ঘটনাটি সবার সামনে ঘটলেও অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি।
অভিযুক্ত হোসেন গুড্ডু অবশ্য দাবি করেছেন, বাড়ির মালিক জায়গাটি বিক্রি করেছেন এবং সে অনুযায়ী ভাড়াটিয়াকে সরানো হয়েছে। এ বিষয়ে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর গফুর সরকার জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন এবং দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার সিভিল ইঞ্জিনিয়ার শরিফুল ইসলাম বলেছেন, রেলওয়ের সরকারি জায়গায় অবৈধ স্থাপনা করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম রেজা সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টারের নাম 





















