ঢাকা ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

কিসের দেশ, নিজেরটা আগে: ড. ইউনূসের ক্ষমতার দেড় বছর ও ব্যক্তিস্বার্থের ‘ষোলো আনা’

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

প্রবল গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ‘দেশ উদ্ধারের’ ডাক দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের হাল ধরেছিলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের সময় তাকে ঘিরে জাতির যে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা ছিল, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় তার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই দেড় বছরে দেশের অর্থনীতির চাকা মন্থর হলেও ড. ইউনূস নিজের স্বার্থ হাসিল করেছেন সুনিপুণভাবে।

অনুসন্ধানের সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’ অনুমোদন। গত দেড় বছরে দেশে মাত্র একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেয়েছে, যা গ্রামীণ ট্রাস্টের একটি উদ্যোগ। যেখানে ২২টি আবেদন বছরের পর বছর ঝুলে ছিল, সেখানে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন করার মাত্র ৩ মাসের মাথায় রকেট গতিতে অনুমোদন পেয়ে যায়। প্রধান উপদেষ্টার পদে থেকে নিজের প্রতিষ্ঠিত ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠানকে এমন অগ্রাধিকার দেওয়াকে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংককে ৫ বছরের জন্য আয়কর অব্যাহতি দিয়েছেন, যার ফলে রাষ্ট্র অন্তত এক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে। এছাড়া গ্রামীণ কল্যাণ ট্রাস্টের ১ হাজার ৪৩ কোটি টাকা ফাঁকির অভিযোগের পাশাপাশি ৬৬৬ কোটি টাকা কর মওকুফের মতো নজিরবিহীন সুবিধা গ্রহণ করেছেন তিনি। শুধু আর্থিক সুবিধাই নয়, চেয়ারে বসে নিজের বিরুদ্ধে থাকা আলোচিত দুর্নীতি মামলাসহ সাতটি মামলা থেকে নিজেকে অব্যাহতি দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ‘সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড’ নামক ই-ওয়ালেটের লাইসেন্স পাওয়া এবং রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাগিয়ে নেওয়ার মতো জটিল কাজগুলো অস্বাভাবিক দ্রুততায় সম্পন্ন হয়েছে। আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে দায়িত্ব নেওয়ার আগে এসব প্রতিষ্ঠানের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও, ক্ষমতা ছাড়ার পর তিনি পুনরায় সেখানে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন, যা নৈতিকতার প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে বসে নিজের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড করা শপথের বরখেলাপ এবং সরাসরি স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest)। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ড. ইউনূসের দেড় বছরের শাসনামলে দেশের সাধারণ মানুষ যখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত ছিল, তখন তিনি ব্যস্ত ছিলেন নিজের বলয়ের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনি ও আর্থিক সুরক্ষা দিতে। ‘দেশ উদ্ধারের’ যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন, দেড় বছর পর তার প্রতিফলন দেশের চেয়ে তার নিজের ও তার প্রতিষ্ঠানের ভাগ্যোন্নয়নেই বেশি দেখা যাচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধে মার্কিনদের সমর্থন হ্রাস: ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও তলানিতে

কিসের দেশ, নিজেরটা আগে: ড. ইউনূসের ক্ষমতার দেড় বছর ও ব্যক্তিস্বার্থের ‘ষোলো আনা’

আপডেট সময় : ১২:১০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

প্রবল গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ‘দেশ উদ্ধারের’ ডাক দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের হাল ধরেছিলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের সময় তাকে ঘিরে জাতির যে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা ছিল, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় তার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই দেড় বছরে দেশের অর্থনীতির চাকা মন্থর হলেও ড. ইউনূস নিজের স্বার্থ হাসিল করেছেন সুনিপুণভাবে।

অনুসন্ধানের সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’ অনুমোদন। গত দেড় বছরে দেশে মাত্র একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেয়েছে, যা গ্রামীণ ট্রাস্টের একটি উদ্যোগ। যেখানে ২২টি আবেদন বছরের পর বছর ঝুলে ছিল, সেখানে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন করার মাত্র ৩ মাসের মাথায় রকেট গতিতে অনুমোদন পেয়ে যায়। প্রধান উপদেষ্টার পদে থেকে নিজের প্রতিষ্ঠিত ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠানকে এমন অগ্রাধিকার দেওয়াকে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংককে ৫ বছরের জন্য আয়কর অব্যাহতি দিয়েছেন, যার ফলে রাষ্ট্র অন্তত এক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে। এছাড়া গ্রামীণ কল্যাণ ট্রাস্টের ১ হাজার ৪৩ কোটি টাকা ফাঁকির অভিযোগের পাশাপাশি ৬৬৬ কোটি টাকা কর মওকুফের মতো নজিরবিহীন সুবিধা গ্রহণ করেছেন তিনি। শুধু আর্থিক সুবিধাই নয়, চেয়ারে বসে নিজের বিরুদ্ধে থাকা আলোচিত দুর্নীতি মামলাসহ সাতটি মামলা থেকে নিজেকে অব্যাহতি দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ‘সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড’ নামক ই-ওয়ালেটের লাইসেন্স পাওয়া এবং রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাগিয়ে নেওয়ার মতো জটিল কাজগুলো অস্বাভাবিক দ্রুততায় সম্পন্ন হয়েছে। আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে দায়িত্ব নেওয়ার আগে এসব প্রতিষ্ঠানের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও, ক্ষমতা ছাড়ার পর তিনি পুনরায় সেখানে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন, যা নৈতিকতার প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে বসে নিজের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড করা শপথের বরখেলাপ এবং সরাসরি স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest)। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ড. ইউনূসের দেড় বছরের শাসনামলে দেশের সাধারণ মানুষ যখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত ছিল, তখন তিনি ব্যস্ত ছিলেন নিজের বলয়ের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনি ও আর্থিক সুরক্ষা দিতে। ‘দেশ উদ্ধারের’ যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন, দেড় বছর পর তার প্রতিফলন দেশের চেয়ে তার নিজের ও তার প্রতিষ্ঠানের ভাগ্যোন্নয়নেই বেশি দেখা যাচ্ছে।