ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতের মুদ্রার দরপতন: উদ্বেগজনকThe Persian Gulf

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরান-ইসরাইল সংঘাতের জের ধরে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে ধাক্কা লেগেছে, তার প্রভাব পড়েছে ভারতের মুদ্রার মানেও। সম্প্রতি ভারতীয় রুপি এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত বছর ভারতীয় রুপির মানে প্রায় ৫ শতাংশ পতন দেখা গিয়েছিল, এবং এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরেও মুদ্রার দরপতন অব্যাহত থাকায় ভারতের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তেলের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিশ্ব অর্থনীতিতে যে চাপ সৃষ্টি করছে, তা ভারতের মতো তেল আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য বিশেষ করে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারতের উচ্চ চলতি হিসাবের ঘাটতি (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট) রুপির ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে এবং এর মান আরও কমার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ওয়েলস ফার্গো ও ভ্যান এক অ্যাসোসিয়েটসের বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ডলারের বিপরীতে রুপির মান ৯৫ থেকে ১০০-এর কাছাকাছি চলে যেতে পারে।

প্রতি ডলারে ১০০ রুপি এখন আর কেবল আশঙ্কা নয়, বরং বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে এটিই বাস্তবতা হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন ব্রোকার ইকুইটি গ্রুপের গবেষক আহমেদ আইজান। তিনি আরও বলেন, সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো কাঠামোগত সমাধানের চেয়ে সাময়িক স্বস্তি দিচ্ছে।

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (আরবিআই) রুপির পতন ঠেকাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, কিন্তু এখনো দৃশ্যমান কোনো ফল পাওয়া যায়নি। বাজারে বিনিয়োগকারীরা রুপির দরপতনের ওপর বাজি ধরছেন, আর আরবিআই সেই চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

এদিকে, অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে স্থিতিশীল হয়েছে, যেখানে পূর্বের পরিকল্পনায় এটি ৭০ ডলার ধরা হয়েছিল। এর ফলে ভারতের মাসিক তেল আমদানি ব্যয় প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বেড়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকলে রুপির ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে এবং এটি ক্ষমতাসীন সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আরবিআই ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব উৎস থেকে ডলার জোগানের নির্দেশ দিচ্ছে এবং বাজারে হস্তক্ষেপ করে বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রি করছে। ২০২৫ সালে তারা রেকর্ড ৫১.৭ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে, যা এই সংকট মোকাবেলার একটি প্রচেষ্টা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে মা-মেয়ের গণধর্ষণ: উদ্বেগ প্রকাশ আসকের

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতের মুদ্রার দরপতন: উদ্বেগজনকThe Persian Gulf

আপডেট সময় : ১১:২৭:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরান-ইসরাইল সংঘাতের জের ধরে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে ধাক্কা লেগেছে, তার প্রভাব পড়েছে ভারতের মুদ্রার মানেও। সম্প্রতি ভারতীয় রুপি এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত বছর ভারতীয় রুপির মানে প্রায় ৫ শতাংশ পতন দেখা গিয়েছিল, এবং এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরেও মুদ্রার দরপতন অব্যাহত থাকায় ভারতের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তেলের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিশ্ব অর্থনীতিতে যে চাপ সৃষ্টি করছে, তা ভারতের মতো তেল আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য বিশেষ করে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারতের উচ্চ চলতি হিসাবের ঘাটতি (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট) রুপির ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে এবং এর মান আরও কমার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ওয়েলস ফার্গো ও ভ্যান এক অ্যাসোসিয়েটসের বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ডলারের বিপরীতে রুপির মান ৯৫ থেকে ১০০-এর কাছাকাছি চলে যেতে পারে।

প্রতি ডলারে ১০০ রুপি এখন আর কেবল আশঙ্কা নয়, বরং বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে এটিই বাস্তবতা হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন ব্রোকার ইকুইটি গ্রুপের গবেষক আহমেদ আইজান। তিনি আরও বলেন, সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো কাঠামোগত সমাধানের চেয়ে সাময়িক স্বস্তি দিচ্ছে।

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (আরবিআই) রুপির পতন ঠেকাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, কিন্তু এখনো দৃশ্যমান কোনো ফল পাওয়া যায়নি। বাজারে বিনিয়োগকারীরা রুপির দরপতনের ওপর বাজি ধরছেন, আর আরবিআই সেই চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

এদিকে, অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে স্থিতিশীল হয়েছে, যেখানে পূর্বের পরিকল্পনায় এটি ৭০ ডলার ধরা হয়েছিল। এর ফলে ভারতের মাসিক তেল আমদানি ব্যয় প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বেড়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকলে রুপির ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে এবং এটি ক্ষমতাসীন সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আরবিআই ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব উৎস থেকে ডলার জোগানের নির্দেশ দিচ্ছে এবং বাজারে হস্তক্ষেপ করে বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রি করছে। ২০২৫ সালে তারা রেকর্ড ৫১.৭ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে, যা এই সংকট মোকাবেলার একটি প্রচেষ্টা।