ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সংসদে এমপিদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে হাসপাতাল পরিদর্শনের প্রস্তাব: হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

দেশের বর্তমান হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় সংসদে এমপিদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে হাসপাতাল পরিদর্শনের একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, হাম রোগটি বর্তমানে মহামারী আকার ধারণ করছে। এই পরিস্থিতিতে, তিনি সংসদকে বৃহস্পতিবার ছুটি দিয়ে সকল সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় পাঠিয়ে হাসপাতালগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করার অনুরোধ জানান।

বুধবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকার স্বাস্থ্যসেবার শোচনীয় অবস্থার কথাও তুলে ধরেন। একই আলোচনায় আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য ক্ষতিপূরণ, শিক্ষা প্রশাসন, নদী খনন, সেতু নির্মাণ এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের মতো বিভিন্ন দাবি-দাওয়া উত্থাপন করেন।

সংসদে তিনি জানান যে, তার নির্বাচনী এলাকায় ২০০ শয্যার একটি হাসপাতাল ভবন থাকলেও সেটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি। হাসপাতালের দুটি লিফটই অকার্যকর রয়েছে এবং আইসিইউ ও ডায়ালাইসিস ইউনিট চালু করার মতো প্রস্তুতিও সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে গুরুতর রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে। এই নাজুক অবস্থার মধ্যেই তিনি হামের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ইতিমধ্যে আপনারা জানেন হাম রোগটা মিজালস এটা কিন্তু একটা মহামারী রূপ ধারণ করেছে।”

অন্য এক আলোচনায়, চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. মমিনুল হক রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে “স্বৈরাচারত্বের বিরুদ্ধে” কথা বলেছেন বলে উল্লেখ করে এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। তিনি ১৯৭১ সালের একটি ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করে বলেন যে, তার বাবাকে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন যে, বিএনপি-র ১৬ বছরের আন্দোলনে নিহত পরিবারগুলোকে জুলাই জাতীয় সনদের ৪ ও ৫ নম্বর দফা অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করা হোক। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের শহীদ পরিবারগুলো ২৫ লাখ টাকা করে সহায়তা পেলেও এর আগের সময়ের নিহত নেতাকর্মীদের পরিবার সেই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি মহান সংসদে সকল শহীদকে সমান মর্যাদা দিয়ে ২৫ লক্ষ টাকা করে প্রদানের মাধ্যমে কষ্টগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান। তিনি আরও বলেন যে, দীর্ঘদিনের “জেল জুলুম” ও “মিথ্যা মামলা” মোকাবিলা করতে গিয়ে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং তাদেরও সহায়তার আওতায় আনা উচিত। তিনি চাঁদপুরে নদী খনন এবং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিরও দাবি তোলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে মা-মেয়ের গণধর্ষণ: উদ্বেগ প্রকাশ আসকের

সংসদে এমপিদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে হাসপাতাল পরিদর্শনের প্রস্তাব: হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ১১:২৫:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

দেশের বর্তমান হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় সংসদে এমপিদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে হাসপাতাল পরিদর্শনের একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, হাম রোগটি বর্তমানে মহামারী আকার ধারণ করছে। এই পরিস্থিতিতে, তিনি সংসদকে বৃহস্পতিবার ছুটি দিয়ে সকল সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় পাঠিয়ে হাসপাতালগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করার অনুরোধ জানান।

বুধবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকার স্বাস্থ্যসেবার শোচনীয় অবস্থার কথাও তুলে ধরেন। একই আলোচনায় আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য ক্ষতিপূরণ, শিক্ষা প্রশাসন, নদী খনন, সেতু নির্মাণ এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের মতো বিভিন্ন দাবি-দাওয়া উত্থাপন করেন।

সংসদে তিনি জানান যে, তার নির্বাচনী এলাকায় ২০০ শয্যার একটি হাসপাতাল ভবন থাকলেও সেটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি। হাসপাতালের দুটি লিফটই অকার্যকর রয়েছে এবং আইসিইউ ও ডায়ালাইসিস ইউনিট চালু করার মতো প্রস্তুতিও সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে গুরুতর রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে। এই নাজুক অবস্থার মধ্যেই তিনি হামের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ইতিমধ্যে আপনারা জানেন হাম রোগটা মিজালস এটা কিন্তু একটা মহামারী রূপ ধারণ করেছে।”

অন্য এক আলোচনায়, চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. মমিনুল হক রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে “স্বৈরাচারত্বের বিরুদ্ধে” কথা বলেছেন বলে উল্লেখ করে এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। তিনি ১৯৭১ সালের একটি ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করে বলেন যে, তার বাবাকে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন যে, বিএনপি-র ১৬ বছরের আন্দোলনে নিহত পরিবারগুলোকে জুলাই জাতীয় সনদের ৪ ও ৫ নম্বর দফা অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করা হোক। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের শহীদ পরিবারগুলো ২৫ লাখ টাকা করে সহায়তা পেলেও এর আগের সময়ের নিহত নেতাকর্মীদের পরিবার সেই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি মহান সংসদে সকল শহীদকে সমান মর্যাদা দিয়ে ২৫ লক্ষ টাকা করে প্রদানের মাধ্যমে কষ্টগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান। তিনি আরও বলেন যে, দীর্ঘদিনের “জেল জুলুম” ও “মিথ্যা মামলা” মোকাবিলা করতে গিয়ে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং তাদেরও সহায়তার আওতায় আনা উচিত। তিনি চাঁদপুরে নদী খনন এবং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিরও দাবি তোলেন।