ঢাকা ০৬:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

হাওরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিতে বোরো ধান তলিয়ে যাচ্ছে, কৃষকদের মাথায় হাত

টানা কয়েকদিনের অতিবৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জের মধ্যনগরসহ হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। পাকা ধানের মৌসুমে এমন জলাবদ্ধতায় বোরো ধান নিয়ে চরম শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। আর মাত্র পনেরো দিন পরই ঘরে তোলার কথা ছিল যে ফসল, তা এখন পানির নিচে পচে নষ্ট হতে শুরু করেছে।

সরেজমিনে টগার হাওর ও রুপেশ্বর হাওর ঘুরে দেখা গেছে, দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ ফসলের মাঠ এখন অথই পানির নিচে। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্যমতে, এই হাওরগুলোর প্রায় অর্ধেক জমি ইতোমধ্যেই তলিয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় অসহায়ভাবে তারা তাদের সোনালী ফসল নষ্ট হতে দেখছেন। টগার হাওরের বিশাল বিস্তৃতির কারণে সেচ মেশিন দিয়ে পানি নিষ্কাশন কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

তবে, উপজেলার কাইল্যানী, রুপেশ্বর, গোড়াডুবা ও বানচাপড়া হাওরসহ কয়েকটি এলাকায় কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে সেচ মেশিন বসিয়ে দিন-রাত পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মেশিন দিয়ে পানি কমানো গেলেও, অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে তাদের শঙ্কা কমছে না।

টগার হাওরের কৃষক মো. শাহানুর মিয়া জানান, এবছর ১৪ একর জমিতে ধান লাগিয়েছিলেন, যার মধ্যে ৮ একর জমির ফসল ইতোমধ্যেই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। চোখের সামনে জমি তলিয়ে গেলেও কিছু করার নেই। যদি পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকত, তবে এই ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতো না।

একই হাওরের আরেক কৃষক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, টানা বৃষ্টিতে এই হাওরের প্রায় অর্ধেক জমি পানির নিচে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। তিনি বলেন, টংীর বাঁধে একটি স্লুইসগেট থাকলে এমন দুরবস্থার সৃষ্টি হতো না। মনাই নদী ও হাওরের অংশবিশেষ খনন করে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান তিনি, অন্যথায় ভবিষ্যতে এ এলাকার কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

কাইল্যানী হাওরের কৃষক স্বজন বিশ্বাস জানান, জলাবদ্ধতায় অনেক জমি নষ্ট হয়ে গেছে। অবশিষ্ট জমি রক্ষায় তারা নিজেদের খরচে অর্ধশতাধিক সেচ মেশিন বসিয়েছেন। প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রুপেশ্বর হাওরের কৃষক মো. নূর আলম বলেন, এই ধানই তাদের সারা বছরের একমাত্র ভরসা। চোখের সামনে বৃষ্টির পানিতে জমি তলিয়ে যাচ্ছে। শেষ রক্ষা হিসেবে শতাধিক মেশিন বসিয়েও পানি কমানো যাচ্ছে না। প্রতিদিন পানি বাড়ছে, মনে হচ্ছে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ড্রোন বিধ্বস্ত

হাওরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিতে বোরো ধান তলিয়ে যাচ্ছে, কৃষকদের মাথায় হাত

আপডেট সময় : ১১:২২:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

টানা কয়েকদিনের অতিবৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জের মধ্যনগরসহ হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। পাকা ধানের মৌসুমে এমন জলাবদ্ধতায় বোরো ধান নিয়ে চরম শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। আর মাত্র পনেরো দিন পরই ঘরে তোলার কথা ছিল যে ফসল, তা এখন পানির নিচে পচে নষ্ট হতে শুরু করেছে।

সরেজমিনে টগার হাওর ও রুপেশ্বর হাওর ঘুরে দেখা গেছে, দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ ফসলের মাঠ এখন অথই পানির নিচে। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্যমতে, এই হাওরগুলোর প্রায় অর্ধেক জমি ইতোমধ্যেই তলিয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় অসহায়ভাবে তারা তাদের সোনালী ফসল নষ্ট হতে দেখছেন। টগার হাওরের বিশাল বিস্তৃতির কারণে সেচ মেশিন দিয়ে পানি নিষ্কাশন কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

তবে, উপজেলার কাইল্যানী, রুপেশ্বর, গোড়াডুবা ও বানচাপড়া হাওরসহ কয়েকটি এলাকায় কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে সেচ মেশিন বসিয়ে দিন-রাত পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মেশিন দিয়ে পানি কমানো গেলেও, অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে তাদের শঙ্কা কমছে না।

টগার হাওরের কৃষক মো. শাহানুর মিয়া জানান, এবছর ১৪ একর জমিতে ধান লাগিয়েছিলেন, যার মধ্যে ৮ একর জমির ফসল ইতোমধ্যেই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। চোখের সামনে জমি তলিয়ে গেলেও কিছু করার নেই। যদি পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকত, তবে এই ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতো না।

একই হাওরের আরেক কৃষক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, টানা বৃষ্টিতে এই হাওরের প্রায় অর্ধেক জমি পানির নিচে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। তিনি বলেন, টংীর বাঁধে একটি স্লুইসগেট থাকলে এমন দুরবস্থার সৃষ্টি হতো না। মনাই নদী ও হাওরের অংশবিশেষ খনন করে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান তিনি, অন্যথায় ভবিষ্যতে এ এলাকার কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

কাইল্যানী হাওরের কৃষক স্বজন বিশ্বাস জানান, জলাবদ্ধতায় অনেক জমি নষ্ট হয়ে গেছে। অবশিষ্ট জমি রক্ষায় তারা নিজেদের খরচে অর্ধশতাধিক সেচ মেশিন বসিয়েছেন। প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রুপেশ্বর হাওরের কৃষক মো. নূর আলম বলেন, এই ধানই তাদের সারা বছরের একমাত্র ভরসা। চোখের সামনে বৃষ্টির পানিতে জমি তলিয়ে যাচ্ছে। শেষ রক্ষা হিসেবে শতাধিক মেশিন বসিয়েও পানি কমানো যাচ্ছে না। প্রতিদিন পানি বাড়ছে, মনে হচ্ছে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে।