ঢাকা ১০:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি: মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া থেকে জনসাধারণকে রক্ষায় প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই সমস্যার সমাধানে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আসা এই নির্দেশ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এই আহ্বান বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে মশাবাহিত প্রতিরোধযোগ্য রোগ নির্মূল বা কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করা উচিত।

অনেক সময় মশা নিধনের নামে ওষুধ ছিটানো হলেও তার কার্যকারিতা সীমিত থাকে, যা করদাতাদের অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়। মশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রতিরোধের জন্য ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন। এই বিষয়ে দেশের সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীদের গবেষণা করা উচিত এবং সরকারপ্রধানের অফিস থেকেও এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

তবে, শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মশার বংশবিস্তারস্থল ধ্বংস করা। জলাবদ্ধতা দূর করা, স্থির পানির উৎস পরিষ্কার রাখা এবং বাড়ির আঙ্গিনায় বা ছাদের বাগানের টবেও যেন পানি জমে না থাকে—এসব বিষয়ে প্রত্যেক নাগরিককে সচেতন হতে হবে। প্রতিটি মহল্লা বা এলাকায় সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করলে এটি কোনো কঠিন কাজ নয়।

মশা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আসলে পরিবেশ ব্যবস্থাপনার বৃহত্তর সমস্যার অংশ। যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা, নোংরা টয়লেট, অপরিচ্ছন্ন রাস্তা এবং দুর্গন্ধযুক্ত বাজার—এগুলো আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। অথচ ইসলাম ধর্মে পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের অর্ধেক বলা হয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনা সম্ভব যদি আমরা প্রত্যেকে সচেতন হই এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে গুরুত্ব দিই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সাফল্যে সৌদি আরবের প্রশংসা, ধর্মমন্ত্রীর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি: মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

আপডেট সময় : ১০:০৩:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া থেকে জনসাধারণকে রক্ষায় প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই সমস্যার সমাধানে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আসা এই নির্দেশ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এই আহ্বান বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে মশাবাহিত প্রতিরোধযোগ্য রোগ নির্মূল বা কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করা উচিত।

অনেক সময় মশা নিধনের নামে ওষুধ ছিটানো হলেও তার কার্যকারিতা সীমিত থাকে, যা করদাতাদের অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়। মশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রতিরোধের জন্য ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন। এই বিষয়ে দেশের সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীদের গবেষণা করা উচিত এবং সরকারপ্রধানের অফিস থেকেও এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

তবে, শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মশার বংশবিস্তারস্থল ধ্বংস করা। জলাবদ্ধতা দূর করা, স্থির পানির উৎস পরিষ্কার রাখা এবং বাড়ির আঙ্গিনায় বা ছাদের বাগানের টবেও যেন পানি জমে না থাকে—এসব বিষয়ে প্রত্যেক নাগরিককে সচেতন হতে হবে। প্রতিটি মহল্লা বা এলাকায় সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করলে এটি কোনো কঠিন কাজ নয়।

মশা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আসলে পরিবেশ ব্যবস্থাপনার বৃহত্তর সমস্যার অংশ। যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা, নোংরা টয়লেট, অপরিচ্ছন্ন রাস্তা এবং দুর্গন্ধযুক্ত বাজার—এগুলো আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। অথচ ইসলাম ধর্মে পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের অর্ধেক বলা হয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনা সম্ভব যদি আমরা প্রত্যেকে সচেতন হই এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে গুরুত্ব দিই।