ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

পানি পরিশোধন কেন্দ্রে হামলার হুমকির মুখে ট্রাম্পের উপসাগরীয় মিত্ররা: মানবিক সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ইরানের পানি পরিশোধন কেন্দ্রগুলোতে হামলার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেওয়ার পর উপসাগরীয় দেশগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর এমন হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আঞ্চলিক দেশগুলো ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করেছে।

সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো উদ্বিগ্ন। তারা আশঙ্কা করছে, এমন হামলা হলে তার প্রতিশোধমূলক প্রতিক্রিয়া ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর হিউম্যান রাইটস ইনিশিয়েটিভের পরিচালক অ্যান্ড্রু ফ্রিডম্যান সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধাপরাধের শামিল কোনো কাজের হুমকি মিত্র দেশগুলোকে আতঙ্কিত করে, কারণ তারা এমন কিছুর অংশ হতে চায় না।

আন্তর্জাতিক আইন স্পষ্টভাবে পানি পরিশোধন কেন্দ্রের মতো বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা নিষিদ্ধ করেছে। মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পর ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। এই অঞ্চলের অনেক দেশই মিঠা পানির উৎস স্বল্পতার কারণে লবণাক্ত জল পরিশোধনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কোনো উপসাগরীয় দেশের পানি লবণমুক্তকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্টে আঘাত হানে, তবে তা এক বিশাল মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে। কারণ এসব দেশের পানীয় জলের একটি বড় অংশই আসে এই প্ল্যান্টগুলো থেকে। এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘এ ধরনের হামলা হলে তা বিশাল বিপর্যয় ডেকে আনবে। আমাদের প্রায় সব পানীয় জলই আসে ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট থেকে।’ যদিও বেশ কয়েকটি দেশ ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে, তারা এখনও প্রকাশ্যে ট্রাম্পের এই অবস্থানের বিরোধিতা করেনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

পানি পরিশোধন কেন্দ্রে হামলার হুমকির মুখে ট্রাম্পের উপসাগরীয় মিত্ররা: মানবিক সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৯:২২:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ইরানের পানি পরিশোধন কেন্দ্রগুলোতে হামলার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেওয়ার পর উপসাগরীয় দেশগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর এমন হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আঞ্চলিক দেশগুলো ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করেছে।

সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো উদ্বিগ্ন। তারা আশঙ্কা করছে, এমন হামলা হলে তার প্রতিশোধমূলক প্রতিক্রিয়া ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর হিউম্যান রাইটস ইনিশিয়েটিভের পরিচালক অ্যান্ড্রু ফ্রিডম্যান সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধাপরাধের শামিল কোনো কাজের হুমকি মিত্র দেশগুলোকে আতঙ্কিত করে, কারণ তারা এমন কিছুর অংশ হতে চায় না।

আন্তর্জাতিক আইন স্পষ্টভাবে পানি পরিশোধন কেন্দ্রের মতো বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা নিষিদ্ধ করেছে। মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পর ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। এই অঞ্চলের অনেক দেশই মিঠা পানির উৎস স্বল্পতার কারণে লবণাক্ত জল পরিশোধনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কোনো উপসাগরীয় দেশের পানি লবণমুক্তকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্টে আঘাত হানে, তবে তা এক বিশাল মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে। কারণ এসব দেশের পানীয় জলের একটি বড় অংশই আসে এই প্ল্যান্টগুলো থেকে। এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘এ ধরনের হামলা হলে তা বিশাল বিপর্যয় ডেকে আনবে। আমাদের প্রায় সব পানীয় জলই আসে ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট থেকে।’ যদিও বেশ কয়েকটি দেশ ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে, তারা এখনও প্রকাশ্যে ট্রাম্পের এই অবস্থানের বিরোধিতা করেনি।