ঢাকা ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

অনিশ্চিত কর ও দুর্বল নীতিমালায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে জাপানি বিনিয়োগ: আমূল সংস্কারের দাবি

বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জাপানি উদ্যোক্তাদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে অস্পষ্ট ও ধারাবাহিকতাহীন নীতিমালা এবং এর দুর্বল প্রয়োগ। গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘জাপান বিজনেস ডে’ সেমিনারে জাপানি বিনিয়োগকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কর ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ব্যবসায়িক খরচ ও সময়ক্ষেপণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জাপানিদের কাছে এখন মুনাফার চেয়ে ব্যবসায়িক পরিবেশের অনিশ্চয়তাই বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকার জাপান দূতাবাস, জেট্রো (JETRO) এবং জেবিসিসিআই (JBCCI)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারে ২০২৫ সালের জেট্রো সমীক্ষাও উপস্থাপন করা হয়।

সেমিনারে শু-কু-কাই-এর প্রেসিডেন্ট মানবু সুগাওয়ারা তাঁর বক্তব্যে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং পরস্পরবিরোধী নির্দেশনার কথা তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ করে জানান, তাঁর নিজের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন তিনবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, যা বিনিয়োগের নেতিবাচক পরিবেশকেই ফুটিয়ে তোলে। মিতসুবিশি করপোরেশনের প্রতিনিধি হিরোশি উয়েগাকি বিলম্ব কমাতে আন্তর্জাতিক মানের তথ্য ব্যবস্থাপনা ও দ্রুত ডিজিটালাইজেশনের ওপর জোর দেন। অন্যদিকে, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিকে (EPA) একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে দীর্ঘমেয়াদী আইনি নিশ্চয়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সরকার উন্নয়ন সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির দিকে যেতে চায়। তিনি উৎপাদন খাতে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী স্বীকার করেন যে, কর প্রশাসনকে আরও স্বচ্ছ করা এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে দ্রুত লাইসেন্স প্রদান নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। ২০২৫ সালের জেট্রো সমীক্ষা অনুযায়ী, ৫৬.৯ শতাংশ জাপানি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী হলেও প্রশাসনিক অদক্ষতা ও নীতিগত অস্পষ্টতা দূর না হলে এই সম্ভাবনা কাজে লাগানো কঠিন হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধে মার্কিনদের সমর্থন হ্রাস: ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও তলানিতে

অনিশ্চিত কর ও দুর্বল নীতিমালায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে জাপানি বিনিয়োগ: আমূল সংস্কারের দাবি

আপডেট সময় : ০১:২০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জাপানি উদ্যোক্তাদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে অস্পষ্ট ও ধারাবাহিকতাহীন নীতিমালা এবং এর দুর্বল প্রয়োগ। গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘জাপান বিজনেস ডে’ সেমিনারে জাপানি বিনিয়োগকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কর ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ব্যবসায়িক খরচ ও সময়ক্ষেপণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জাপানিদের কাছে এখন মুনাফার চেয়ে ব্যবসায়িক পরিবেশের অনিশ্চয়তাই বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকার জাপান দূতাবাস, জেট্রো (JETRO) এবং জেবিসিসিআই (JBCCI)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারে ২০২৫ সালের জেট্রো সমীক্ষাও উপস্থাপন করা হয়।

সেমিনারে শু-কু-কাই-এর প্রেসিডেন্ট মানবু সুগাওয়ারা তাঁর বক্তব্যে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং পরস্পরবিরোধী নির্দেশনার কথা তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ করে জানান, তাঁর নিজের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন তিনবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, যা বিনিয়োগের নেতিবাচক পরিবেশকেই ফুটিয়ে তোলে। মিতসুবিশি করপোরেশনের প্রতিনিধি হিরোশি উয়েগাকি বিলম্ব কমাতে আন্তর্জাতিক মানের তথ্য ব্যবস্থাপনা ও দ্রুত ডিজিটালাইজেশনের ওপর জোর দেন। অন্যদিকে, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিকে (EPA) একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে দীর্ঘমেয়াদী আইনি নিশ্চয়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সরকার উন্নয়ন সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির দিকে যেতে চায়। তিনি উৎপাদন খাতে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী স্বীকার করেন যে, কর প্রশাসনকে আরও স্বচ্ছ করা এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে দ্রুত লাইসেন্স প্রদান নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। ২০২৫ সালের জেট্রো সমীক্ষা অনুযায়ী, ৫৬.৯ শতাংশ জাপানি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী হলেও প্রশাসনিক অদক্ষতা ও নীতিগত অস্পষ্টতা দূর না হলে এই সম্ভাবনা কাজে লাগানো কঠিন হবে।