ঢাকা ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

আওয়ামী আমলে বিশেষ জেলার নিয়োগে ব্যাপক জালিয়াতি: পুলিশ বাহিনীতে শুদ্ধি অভিযানের মুখে আতঙ্ক

আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৭ বছরের শাসনামলে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের লক্ষ্যে নজিরবিহীন নিয়োগ জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসছে। বিশেষ করে গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের মতো জেলাগুলো থেকে কোটার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি সদস্য নিয়োগ দিয়ে পুলিশে ‘আওয়ামীকরণ’ সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। এই প্রক্রিয়ার অন্যতম কারিগর হিসেবে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের নাম উঠে এসেছে, যিনি একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অযোগ্য ও দলীয় ক্যাডারদের পুলিশে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকার এই বিতর্কিত নিয়োগগুলো খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিশেষ জেলাগুলো থেকে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

তদন্তে দেখা গেছে, জেলা কোটার সীমাবদ্ধতা কাটাতে ঢাকার ধামরাই ও সাভারের মতো এলাকায় ছোট ছোট জমি কিনে শত শত প্রার্থীর স্থায়ী ঠিকানা জালিয়াতি করা হয়েছে। শুধু ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যেই ধামরাইয়ের ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে অন্তত এক হাজার জনকে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসআই নিয়োগে গোপালগঞ্জের জন্য নির্ধারিত ০.৮১ শতাংশ কোটার বিপরীতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৩.৮৮ শতাংশ, যা নির্ধারিত সীমার প্রায় চার গুণ। অভিযোগ আছে, গত ১৫ বছরে নিয়োগ পাওয়া ৪৫ হাজার পুলিশ সদস্যের মধ্যে কেবল গোপালগঞ্জ থেকেই নিয়োগ পেয়েছেন ৮ হাজার জন। তৎকালীন আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও এসবি প্রধান মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন পৃথক গ্রুপগুলোও এই দলীয় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ছিল।

বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে সাড়ে ৯ হাজার পুলিশ সদস্যের (দেড় হাজার এসআই ও আট হাজার কনস্টেবল) নিয়োগ পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে। গত ১৫ মার্চ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রতিটি জেলার এসপিকে জরুরি চিঠি পাঠিয়ে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। গত জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সাধারণ মানুষের ওপর গুলিবর্ষণে এই প্রক্রিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্তদের বড় অংশ জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, স্থায়ী ঠিকানা গোপন করে বা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে যারা চাকরি নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে; তবে তদন্তে যেন কোনো নির্দোষ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হয় সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধে মার্কিনদের সমর্থন হ্রাস: ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও তলানিতে

আওয়ামী আমলে বিশেষ জেলার নিয়োগে ব্যাপক জালিয়াতি: পুলিশ বাহিনীতে শুদ্ধি অভিযানের মুখে আতঙ্ক

আপডেট সময় : ০১:১৮:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৭ বছরের শাসনামলে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের লক্ষ্যে নজিরবিহীন নিয়োগ জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসছে। বিশেষ করে গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের মতো জেলাগুলো থেকে কোটার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি সদস্য নিয়োগ দিয়ে পুলিশে ‘আওয়ামীকরণ’ সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। এই প্রক্রিয়ার অন্যতম কারিগর হিসেবে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের নাম উঠে এসেছে, যিনি একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অযোগ্য ও দলীয় ক্যাডারদের পুলিশে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকার এই বিতর্কিত নিয়োগগুলো খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিশেষ জেলাগুলো থেকে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

তদন্তে দেখা গেছে, জেলা কোটার সীমাবদ্ধতা কাটাতে ঢাকার ধামরাই ও সাভারের মতো এলাকায় ছোট ছোট জমি কিনে শত শত প্রার্থীর স্থায়ী ঠিকানা জালিয়াতি করা হয়েছে। শুধু ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যেই ধামরাইয়ের ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে অন্তত এক হাজার জনকে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসআই নিয়োগে গোপালগঞ্জের জন্য নির্ধারিত ০.৮১ শতাংশ কোটার বিপরীতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৩.৮৮ শতাংশ, যা নির্ধারিত সীমার প্রায় চার গুণ। অভিযোগ আছে, গত ১৫ বছরে নিয়োগ পাওয়া ৪৫ হাজার পুলিশ সদস্যের মধ্যে কেবল গোপালগঞ্জ থেকেই নিয়োগ পেয়েছেন ৮ হাজার জন। তৎকালীন আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও এসবি প্রধান মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন পৃথক গ্রুপগুলোও এই দলীয় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ছিল।

বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে সাড়ে ৯ হাজার পুলিশ সদস্যের (দেড় হাজার এসআই ও আট হাজার কনস্টেবল) নিয়োগ পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে। গত ১৫ মার্চ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রতিটি জেলার এসপিকে জরুরি চিঠি পাঠিয়ে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। গত জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সাধারণ মানুষের ওপর গুলিবর্ষণে এই প্রক্রিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্তদের বড় অংশ জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, স্থায়ী ঠিকানা গোপন করে বা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে যারা চাকরি নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে; তবে তদন্তে যেন কোনো নির্দোষ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হয় সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।