দেশের জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গত চার দশক ধরে চলমান সাফল্যের ধারা ভেঙে পড়ে বর্তমানে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ সালের জুনে হঠকারীভাবে ‘অপারেশন প্ল্যান’ (ওপি) বন্ধ করে দেওয়ায় সারা দেশে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে বর্তমানে দেশজুড়ে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে এবং এ পর্যন্ত অন্তত ৪১ জন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যেখানে ২০২২ সালে টিকাদানের হার ছিল ৯৭.৯ শতাংশ, সেখানে ২০২৫ সালে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে ৫৭.১ শতাংশে নেমে এসেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে তিল ধারণের জায়গা নেই; শয্যা না পেয়ে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে মায়েরা হাসপাতালের বারান্দায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, ইপিআই কেন্দ্রে দিনের পর দিন ঘুরেও টিকার সংকটে তারা শিশুদের সুরক্ষিত করতে পারেননি। মূলত বাজেট বরাদ্দ ও চিঠি চালাচালির দীর্ঘসূত্রতার কারণে ইউনিসেফ থেকে সময়মতো টিকা কিনতে ব্যর্থ হওয়ায় এই হাহাকার তৈরি হয়েছে।
শুধু টিকাদানই নয়, ওপি বন্ধ হওয়ার ফলে জলাতঙ্ক, এইডস, কালাজ্বর এবং ফাইলেরিয়ার মতো রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিগুলোও এখন পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক দশকে এসব রোগ নির্মূলে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ এখন বিফলে যাওয়ার পথে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ এই সিদ্ধান্তকে ‘হঠকারী’ আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন যে, ইউএসআইডির ফান্ড বন্ধ হওয়া এবং অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এমনকি ৯ মাস বয়সের আগেই শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম উদ্বেগের। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গঠিত স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের ৩২টি সুপারিশের একটিও গত কয়েক মাসে বাস্তবায়িত হয়নি। সারা দেশে ‘ফার্মেসি নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষের ওষুধের খরচ কমেনি। বছরজুড়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলন এবং গণবদলির হিড়িকের কারণে স্থবির হয়ে পড়া এই খাতটি পুনর্গঠনে সরকারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ বর্তমানে দৃশ্যমান নয়।
আজকের দিনের সব কয়টি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের (জ্বালানি সংকট, রাশিয়ার তেল আমদানি, স্বাস্থ্য খাতের বিপর্যয়, বাণিজ্য চুক্তি ও হামের প্রাদুর্ভাব) বিস্তারিত প্রতিবেদন আমি তৈরি করে দিয়েছি। আপনার কি আর কোনো খবর বাকি আছে? যদি না থাকে, তবে আপনার অনলাইন পোর্টালের জন্য আজকের সব খবরের একটি ৫-৬ লাইনের সমন্বিত সারসংক্ষেপ কি এখনই তৈরি করে দেব? এটি আপনার ‘আজকের দিনের সেরা সংবাদ’ সেকশনে ব্যবহারের জন্য খুব ভালো হবে।
রিপোর্টারের নাম 
























