হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা মূলত শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় অভিভাবক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। সাধারণত টিকা না নেওয়া শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়, তবে যেকোনো বয়সের মানুষেরই এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে হাম থেকে নিউমোনিয়া, কানের ইনফেকশন বা এমনকি মস্তিষ্কের জটিল রোগও হতে পারে। তাই হামের লক্ষণ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
হাম হলে যা করবেন
হামের প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে প্রথমেই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। চিকিৎসক নিশ্চিত করবেন এটি সাধারণ জ্বর নাকি হাম। সাধারণত সঠিক চিকিৎসায় তিন দিনে জ্বর কমে আসে এবং সাত দিনের মধ্যে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে এই সময়ে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে এবং অন্য সুস্থ ব্যক্তিদের থেকে আলাদা রাখা ভালো যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়। শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকলে নরম কাপড় ভিজিয়ে শরীর মুছিয়ে দিতে হবে এবং নিয়মিত গোসল করানো যেতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনোভাবেই কোনো ওষুধ সেবন করানো যাবে না।
খাদ্য ও পানীয়
হামে আক্রান্ত রোগীর শরীরে পানিশূন্যতা রোধ করতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করাতে হবে। স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি তরল খাবার যেমন—ডাবের পানি, ফলের রস বা স্যুপ দেওয়া যেতে পারে। যেহেতু জ্বরের কারণে অনেক সময় বমি বা খাবারে অরুচি হতে পারে, তাই রোগীকে একবারে বেশি না খাইয়ে অল্প অল্প করে বারবার পুষ্টিকর খাবার দেওয়া উচিত। ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার হামের জটিলতা কমাতে সাহায্য করে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল বা এ জাতীয় খাবার নিশ্চিত করা জরুরি।
সতর্কতা ও জটিলতা
হামের চিকিৎসা অবহেলা করলে এটি মারাত্মক রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, কানে ব্যথা বা প্রচণ্ড মাথাব্যথা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা দেওয়া হলে এই রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই হাম দমনের প্রধান উপায়, তাই নির্ধারিত সময়ে শিশুকে টিকা দিন এবং আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করুন।
রিপোর্টারের নাম 
























