ঢাকা ১২:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

মিয়ানমারে সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অনিশ্চিত, সাড়ে ৩ লাখ রোহিঙ্গার তথ্য যাচাই সম্পন্ন

মিয়ানমারের বর্তমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও সংঘাতের কারণে এখনই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার পরিস্থিতির মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন—এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী জানান, এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা ও সমর্থন জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশ কূটনৈতিক, আইনি ও মানবিক সব উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।

জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার নিয়মিতভাবে রোহিঙ্গা তথ্য যাচাইকরণ করছে। এ পর্যন্ত ছয়টি ধাপে আট লাখ ২৯ হাজার ৩৬ জন রোহিঙ্গার তথ্য মিয়ানমার সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তিন লাখ ৫৪ হাজার ৭৫১ জনের তথ্য যাচাই করেছে। বাংলাদেশ থেকে পাঠানো তালিকার মধ্যে দুই লাখ ৫৩ হাজার ৯৬৪ জনকে মিয়ানমার সরকার ‘পূর্বে মিয়ানমারে বসবাসকারী ব্যক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ নৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন প্রদান করেছে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা অপরাধ সংগঠনের দায়ে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমারের মামলা পরিচালনায় বাংলাদেশ আর্থিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এই আইনি প্রক্রিয়াকে গভীর গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গর্ভের শিশুর লিঙ্গ প্রকাশে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা: ৬ মাসের মধ্যে ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরির নির্দেশ

মিয়ানমারে সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অনিশ্চিত, সাড়ে ৩ লাখ রোহিঙ্গার তথ্য যাচাই সম্পন্ন

আপডেট সময় : ০৭:৩০:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

মিয়ানমারের বর্তমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও সংঘাতের কারণে এখনই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার পরিস্থিতির মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন—এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী জানান, এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা ও সমর্থন জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশ কূটনৈতিক, আইনি ও মানবিক সব উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।

জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার নিয়মিতভাবে রোহিঙ্গা তথ্য যাচাইকরণ করছে। এ পর্যন্ত ছয়টি ধাপে আট লাখ ২৯ হাজার ৩৬ জন রোহিঙ্গার তথ্য মিয়ানমার সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তিন লাখ ৫৪ হাজার ৭৫১ জনের তথ্য যাচাই করেছে। বাংলাদেশ থেকে পাঠানো তালিকার মধ্যে দুই লাখ ৫৩ হাজার ৯৬৪ জনকে মিয়ানমার সরকার ‘পূর্বে মিয়ানমারে বসবাসকারী ব্যক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ নৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন প্রদান করেছে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা অপরাধ সংগঠনের দায়ে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমারের মামলা পরিচালনায় বাংলাদেশ আর্থিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এই আইনি প্রক্রিয়াকে গভীর গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।