রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও ভয়াবহ আকারে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে এবং এতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এক বছরের কম বয়সী শিশুরা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতির জন্য স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা, টিকাদান কর্মসূচিতে দীর্ঘদিনের ছেদ এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের অভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই সূত্রে জানা গেছে যে গত ফেব্রুয়ারি মাসে বৈশ্বিক জোট ‘গ্যাভি’র পক্ষ থেকে প্রায় দুই কোটি ডোজ এমআর (মিজেলস-রুবেলা) টিকা দেশে আসলেও সিরিঞ্জ ও প্রয়োজনীয় ফান্ডের অভাবে সেগুলো শিশুদের শরীরে প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্বাস্থ্য খাতের বিশেষ প্রোগ্রামগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বাজেট কাঠামোর সমন্বয়হীনতার কারণে প্রায় নয় মাস ধরে দেশের শিশুরা নিয়মিত টিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে যার ফলে তাদের শরীরে এই সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে কোনো সুরক্ষা তৈরি হয়নি।
বর্তমানে দেশের অন্তত ১২টি জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে যার মধ্যে ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, পাবনা, চট্টগ্রাম, যশোর ও নাটোর জেলা অন্যতম। ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চলতি বছর প্রায় ৫০০ শিশু হাম নিয়ে ভর্তি হয়েছে এবং সেখানে ১৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। এছাড়া ময়মনসিংহ ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে এবং সেখানেও বেশ কয়েকজন শিশুর প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আইইডিসিআর-এর উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন জানিয়েছেন যে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই থেকে বিপুল সংখ্যক শিশু বাদ পড়ে যাওয়ায় তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়নি এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অপুষ্টির কারণে এই ভাইরাস দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। ইপিআই কর্মসূচিতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পদ শূন্য থাকা এবং মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের আন্দোলনের কারণে টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে টিকার জন্য প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভেন্টিলেটর ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান যে সাময়িক ঘাটতি মেটাতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত টিকা এবং আসন্ন ক্যাম্পেইনের জন্য রাখা টিকা ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে দ্রুত এই টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় সচল করা না গেলে দেশের একটি বিশাল শিশু জনগোষ্ঠী দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়বে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আশা করছে যে গ্যাভির কাছ থেকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা পেলে দ্রুতই সারাদেশে এই টিকাদান কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করা সম্ভব হবে।
রিপোর্টারের নাম 
























