ঢাকা ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: লিবিয়া থেকে গ্রিসগামী ২১ বাংলাদেশি উদ্ধার, আহতরা হাসপাতালে

লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে অন্তত ২১ বাংলাদেশি নাগরিকের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি জানান, গ্রিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ইতোমধ্যে জীবিতদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে এবং তাদের পরিচয় ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের একটি ক্যাম্পে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অভিবাসনপ্রত্যাশী থাকায় ঘটনাটি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এটি প্রমাণ করে যে মানব পাচারকারীরা কোনো ধরনের ঝুঁকি বা মানবিক দিক বিবেচনা না করেই মানুষকে বিপজ্জনক যাত্রায় ঠেলে দিচ্ছে। প্রতিটি ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ ভুল তথ্য দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি করতে পারে। জীবিতদের দেশে ফিরিয়ে আনা একটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হওয়া প্রক্রিয়া, যেখানে সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা, গ্রিস সরকারের নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং তাদের শারীরিক ও আইনি অবস্থা বিবেচনা করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্র জড়িত, যারা বাংলাদেশ ও লিবিয়া উভয় দেশেই সক্রিয়। তারা উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর বিপজ্জনক পথে ঠেলে দেয়, যা তাদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এই চক্রটিকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আইন ও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, শুধু এই ঘটনার বিচার নয়, দীর্ঘমেয়াদে মানব পাচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এই ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। উল্লেখ্য, লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ভাসমান একটি নৌকায় অন্তত ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি বলে জানা গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টিআইএন থাকলেও রিটার্ন জমা দেননি ৭৮ লাখ মানুষ, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি এনবিআরের

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: লিবিয়া থেকে গ্রিসগামী ২১ বাংলাদেশি উদ্ধার, আহতরা হাসপাতালে

আপডেট সময় : ০৬:৩৬:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে অন্তত ২১ বাংলাদেশি নাগরিকের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি জানান, গ্রিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ইতোমধ্যে জীবিতদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে এবং তাদের পরিচয় ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের একটি ক্যাম্পে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অভিবাসনপ্রত্যাশী থাকায় ঘটনাটি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এটি প্রমাণ করে যে মানব পাচারকারীরা কোনো ধরনের ঝুঁকি বা মানবিক দিক বিবেচনা না করেই মানুষকে বিপজ্জনক যাত্রায় ঠেলে দিচ্ছে। প্রতিটি ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ ভুল তথ্য দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি করতে পারে। জীবিতদের দেশে ফিরিয়ে আনা একটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হওয়া প্রক্রিয়া, যেখানে সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা, গ্রিস সরকারের নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং তাদের শারীরিক ও আইনি অবস্থা বিবেচনা করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্র জড়িত, যারা বাংলাদেশ ও লিবিয়া উভয় দেশেই সক্রিয়। তারা উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর বিপজ্জনক পথে ঠেলে দেয়, যা তাদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এই চক্রটিকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আইন ও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, শুধু এই ঘটনার বিচার নয়, দীর্ঘমেয়াদে মানব পাচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এই ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। উল্লেখ্য, লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ভাসমান একটি নৌকায় অন্তত ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি বলে জানা গেছে।