ঢাকা ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

মানব পাচার: ১২ লাখ টাকা দিয়ে লিবিয়া গিয়ে নিখোঁজ জগন্নাথপুরের ইজাজুল

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া (লম্বাহাটি) গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের অভাব দূর করার স্বপ্ন নিয়ে গত ২২ জানুয়ারি ঘর ছেড়ে লিবিয়ার পথে পাড়ি জমিয়েছিলেন ইজাজুল হক মনি (২৪)। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন এক অজানা আতঙ্কের রূপ নিয়েছে। গত ২১ মার্চ রাতে সমুদ্রপথে ইউরোপের উদ্দেশ্যে ‘গেইমে’ ওঠার পর থেকে তার পরিবার তার কোনো খোঁজ পায়নি।

পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট ইজাজুলের নিখোঁজ হওয়ার খবরে তার মা ফিরোজা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। জ্ঞান ফিরলেই তিনি আদরের ছেলেকে ফেরত চাওয়ার আকুতি জানাচ্ছেন।

ইজাজুলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি মানব পাচারের এক নির্মম চিত্র তুলে ধরেছে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের ওরিয়েন্টাল মার্কেটের ব্যবসা গুটিয়ে ১২ লাখ টাকা দালালের হাতে তুলে দিয়ে লিবিয়ার পথে রওনা হয়েছিলেন ইজাজুল। ছাতক উপজেলার শক্তিরগাঁও গ্রামের দালাল দুলালের মাধ্যমে তাকে লিবিয়া পাঠানো হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু হয় বিভীষিকা।

ইজাজুলের বোন জামাই নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত রবিবার সকালে পর্তুগাল থেকে এক ব্যক্তি নিজেকে দালাল দুলালের ভাই পরিচয় দিয়ে ফোন করে জানায় যে, তারা বাড়িতে ‘মানুষ’ নিয়ে আসবে। এর বাইরে তারা কোনো স্পষ্ট তথ্য দেয়নি। ইজাজুলের নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে দালালের ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পরিবারটি চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে এবং প্রশাসনের কাছে তাদের শ্যালককে দ্রুত ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে।

কান্নায় ভেঙে পড়া ইজাজুলের বড় বোন জুলেফা বেগম বলেন, তার ভাই পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে নিজের ব্যবসা বিক্রি করে দালালের হাতে টাকা তুলে দিয়েছিল। দালাল দুলাল তাকে লিবিয়া নিয়ে গিয়ে আটকে রেখেছিল। সেখানে তাকে খেতে দেওয়া হতো না, দিনের পর দিন মারধর করা হতো। ফোনে সে বাড়িতে কান্নাকাটি করত। শেষবার বলেছিল সে নৌকায় উঠছে, এরপর থেকে আর কোনো খবর নেই। তারা এখন কী নিয়ে বাঁচবে, তা নিয়ে দিশেহারা।

ইজাজুলের সাথে একই বন্দিশালায় থাকা তার চাচাতো ভাই রাজেন লিবিয়া থেকে জানিয়েছেন, ‘গেইমে’ পাঠানোর আগে তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। প্রায় এক মাস তাদের কোনো খাবার দেওয়া হয়নি। ইজাজুল মাঝেমধ্যে অত্যন্ত কাতর গলায় বাড়িতে ভয়েস মেসেজ পাঠাতেন, যেখানে তার অসহায়ত্বের চিত্র ফুটে উঠত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দীর্ঘ এক মাস পর ইরাকের তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু

মানব পাচার: ১২ লাখ টাকা দিয়ে লিবিয়া গিয়ে নিখোঁজ জগন্নাথপুরের ইজাজুল

আপডেট সময় : ০৬:৩৪:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া (লম্বাহাটি) গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের অভাব দূর করার স্বপ্ন নিয়ে গত ২২ জানুয়ারি ঘর ছেড়ে লিবিয়ার পথে পাড়ি জমিয়েছিলেন ইজাজুল হক মনি (২৪)। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন এক অজানা আতঙ্কের রূপ নিয়েছে। গত ২১ মার্চ রাতে সমুদ্রপথে ইউরোপের উদ্দেশ্যে ‘গেইমে’ ওঠার পর থেকে তার পরিবার তার কোনো খোঁজ পায়নি।

পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট ইজাজুলের নিখোঁজ হওয়ার খবরে তার মা ফিরোজা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। জ্ঞান ফিরলেই তিনি আদরের ছেলেকে ফেরত চাওয়ার আকুতি জানাচ্ছেন।

ইজাজুলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি মানব পাচারের এক নির্মম চিত্র তুলে ধরেছে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের ওরিয়েন্টাল মার্কেটের ব্যবসা গুটিয়ে ১২ লাখ টাকা দালালের হাতে তুলে দিয়ে লিবিয়ার পথে রওনা হয়েছিলেন ইজাজুল। ছাতক উপজেলার শক্তিরগাঁও গ্রামের দালাল দুলালের মাধ্যমে তাকে লিবিয়া পাঠানো হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু হয় বিভীষিকা।

ইজাজুলের বোন জামাই নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত রবিবার সকালে পর্তুগাল থেকে এক ব্যক্তি নিজেকে দালাল দুলালের ভাই পরিচয় দিয়ে ফোন করে জানায় যে, তারা বাড়িতে ‘মানুষ’ নিয়ে আসবে। এর বাইরে তারা কোনো স্পষ্ট তথ্য দেয়নি। ইজাজুলের নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে দালালের ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পরিবারটি চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে এবং প্রশাসনের কাছে তাদের শ্যালককে দ্রুত ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে।

কান্নায় ভেঙে পড়া ইজাজুলের বড় বোন জুলেফা বেগম বলেন, তার ভাই পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে নিজের ব্যবসা বিক্রি করে দালালের হাতে টাকা তুলে দিয়েছিল। দালাল দুলাল তাকে লিবিয়া নিয়ে গিয়ে আটকে রেখেছিল। সেখানে তাকে খেতে দেওয়া হতো না, দিনের পর দিন মারধর করা হতো। ফোনে সে বাড়িতে কান্নাকাটি করত। শেষবার বলেছিল সে নৌকায় উঠছে, এরপর থেকে আর কোনো খবর নেই। তারা এখন কী নিয়ে বাঁচবে, তা নিয়ে দিশেহারা।

ইজাজুলের সাথে একই বন্দিশালায় থাকা তার চাচাতো ভাই রাজেন লিবিয়া থেকে জানিয়েছেন, ‘গেইমে’ পাঠানোর আগে তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। প্রায় এক মাস তাদের কোনো খাবার দেওয়া হয়নি। ইজাজুল মাঝেমধ্যে অত্যন্ত কাতর গলায় বাড়িতে ভয়েস মেসেজ পাঠাতেন, যেখানে তার অসহায়ত্বের চিত্র ফুটে উঠত।