ঢাকা ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

যুবদল নেতার কার্যালয়ে ছাত্রদলের ৮ নেতাকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি

নোয়াখালীর সদর উপজেলার আণ্ডারচর ইউনিয়নে যুবদল নেতার কার্যালয়ে ছাত্রদলের আট নেতাকর্মীকে অবরুদ্ধ করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সুধারাম থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত আন্ডারচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে শামু ব্যাপারীর সমাজে এই ঘটনা ঘটে। নির্যাতিতরা হলেন— ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএ-র ছাত্র ও সদর উপজেলা প্রজন্ম দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূর হোসেন রনি (২৫), আণ্ডারচর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. রাজিব, ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি মো. তাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হৃদয় হোসেন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য রাকিবুল ইসলাম, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্য মো. রাসেল, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য মো. ইউছুফ এবং ছাত্রদল কর্মী আকরাম হোসেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা অভিযোগ করে বলেন, ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্দেশ্যে তারা আটজন বাংলাবাজার এলাকায় যান। সজীব নামে একজন তাদের শামু বেপারীর সমাজের একটি দোকানে চা খেতে নিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয় শ্রমিক দলের সোহেল তাদের জোরপূর্বক ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সেলিমের অফিসে নিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। তারা ইউনিয়ন ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিষয়টি অবহিত করেন।

খবর পেয়ে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে এসে ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সেলিম ও ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি রুহুল আমিন বাহাদুরকে খবর দেন। শেখ সেলিম ঘটনাস্থলে দেরিতে পৌঁছালেও রুহুল আমিন বাহাদুর দ্রুত আসেন। আলোচনার এক পর্যায়ে সেলিমের অফিস থেকে জাহাঙ্গীরকে বাইরে ডেকে নিয়ে যান বাহাদুর। এ সময় হেলমেট ও মুখোশ পরিহিত ২৫-৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল শেখ সেলিমের অফিসে ঢুকে বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে দেয় এবং অবরুদ্ধদের নির্জন স্থানে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে লোহার রড, চাপাতি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দীর্ঘ এক মাস পর ইরাকের তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু

যুবদল নেতার কার্যালয়ে ছাত্রদলের ৮ নেতাকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি

আপডেট সময় : ০৪:১৯:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

নোয়াখালীর সদর উপজেলার আণ্ডারচর ইউনিয়নে যুবদল নেতার কার্যালয়ে ছাত্রদলের আট নেতাকর্মীকে অবরুদ্ধ করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সুধারাম থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত আন্ডারচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে শামু ব্যাপারীর সমাজে এই ঘটনা ঘটে। নির্যাতিতরা হলেন— ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএ-র ছাত্র ও সদর উপজেলা প্রজন্ম দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূর হোসেন রনি (২৫), আণ্ডারচর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. রাজিব, ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি মো. তাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হৃদয় হোসেন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য রাকিবুল ইসলাম, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্য মো. রাসেল, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য মো. ইউছুফ এবং ছাত্রদল কর্মী আকরাম হোসেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা অভিযোগ করে বলেন, ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্দেশ্যে তারা আটজন বাংলাবাজার এলাকায় যান। সজীব নামে একজন তাদের শামু বেপারীর সমাজের একটি দোকানে চা খেতে নিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয় শ্রমিক দলের সোহেল তাদের জোরপূর্বক ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সেলিমের অফিসে নিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। তারা ইউনিয়ন ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিষয়টি অবহিত করেন।

খবর পেয়ে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে এসে ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সেলিম ও ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি রুহুল আমিন বাহাদুরকে খবর দেন। শেখ সেলিম ঘটনাস্থলে দেরিতে পৌঁছালেও রুহুল আমিন বাহাদুর দ্রুত আসেন। আলোচনার এক পর্যায়ে সেলিমের অফিস থেকে জাহাঙ্গীরকে বাইরে ডেকে নিয়ে যান বাহাদুর। এ সময় হেলমেট ও মুখোশ পরিহিত ২৫-৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল শেখ সেলিমের অফিসে ঢুকে বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে দেয় এবং অবরুদ্ধদের নির্জন স্থানে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে লোহার রড, চাপাতি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়।