ঢাকা ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ইউরোপ যাত্রার স্বপ্ন কেড়ে নিল ভূমধ্যসাগর, ১৭ লাখ টাকা খুইয়ে নাঈমের সলিল সমাধি

পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের যুবক নাঈম মিয়া (২৫)। কিন্তু দালালের খপ্পরে পড়ে ১৭ লাখ টাকা খুইয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে প্রাণ দিতে হলো ভূমধ্যসাগরের নোনা জলে। আঠারো মাস বয়সী অবুঝ কন্যাসন্তানকে রেখে নাঈমের এই চিরবিদায় তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর উন্নত জীবনের আশায় ঘর ছেড়েছিলেন নাঈম। স্থানীয় দালাল আজিজের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইউরোপ পৌঁছানোর কথা ছিল তার। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু হয় তার ওপর অমানুসিক নির্যাতন। একটি অন্ধকার ঘরে আটকে রেখে তাকেসহ অন্যদের ওপর চালানো হতো পৈশাচিক অত্যাচার। মৃত্যুর মাত্র একদিন আগে স্ত্রীকে পাঠানো এক বার্তায় নাঈম জানিয়েছিলেন তাদের অনাহার আর অবর্ণনীয় কষ্টের কথা।

সহযাত্রীদের সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের অনাহার আর নির্যাতনে নিস্তেজ হয়ে পড়া নাঈম গত ২১ মার্চ নৌকায় ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান। পাষণ্ড দালালরা তার নিথর দেহটি মাঝপথেই উত্তাল সাগরে ফেলে দেয়। আজ নাঈমের বাড়িতে কান্নার রোল, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে আকাশ। স্বপ্ন পূরণের বদলে এক বুক হাহাকার আর ঋণের বোঝা নিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে পরিবারটি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দীর্ঘ এক মাস পর ইরাকের তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু

ইউরোপ যাত্রার স্বপ্ন কেড়ে নিল ভূমধ্যসাগর, ১৭ লাখ টাকা খুইয়ে নাঈমের সলিল সমাধি

আপডেট সময় : ০৩:১১:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের যুবক নাঈম মিয়া (২৫)। কিন্তু দালালের খপ্পরে পড়ে ১৭ লাখ টাকা খুইয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে প্রাণ দিতে হলো ভূমধ্যসাগরের নোনা জলে। আঠারো মাস বয়সী অবুঝ কন্যাসন্তানকে রেখে নাঈমের এই চিরবিদায় তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর উন্নত জীবনের আশায় ঘর ছেড়েছিলেন নাঈম। স্থানীয় দালাল আজিজের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইউরোপ পৌঁছানোর কথা ছিল তার। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু হয় তার ওপর অমানুসিক নির্যাতন। একটি অন্ধকার ঘরে আটকে রেখে তাকেসহ অন্যদের ওপর চালানো হতো পৈশাচিক অত্যাচার। মৃত্যুর মাত্র একদিন আগে স্ত্রীকে পাঠানো এক বার্তায় নাঈম জানিয়েছিলেন তাদের অনাহার আর অবর্ণনীয় কষ্টের কথা।

সহযাত্রীদের সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের অনাহার আর নির্যাতনে নিস্তেজ হয়ে পড়া নাঈম গত ২১ মার্চ নৌকায় ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান। পাষণ্ড দালালরা তার নিথর দেহটি মাঝপথেই উত্তাল সাগরে ফেলে দেয়। আজ নাঈমের বাড়িতে কান্নার রোল, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে আকাশ। স্বপ্ন পূরণের বদলে এক বুক হাহাকার আর ঋণের বোঝা নিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে পরিবারটি।