চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ডিজেল মজুদের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে একটি গুদাম থেকে প্রায় ৬ হাজার লিটার তেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে পরিচিত যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আলমগীর, যিনি গুদামের মালিক, বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। শুক্রবার সকালে পতেঙ্গার মাদ্রাসা গেট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পুলিশের নজরে আসা একটি টিনশেড গুদামে দীর্ঘদিন ধরে চোরাই তেল সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং পাইকারি বিক্রির কার্যক্রম চলছিল বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রমতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে আলমগীর তার মজুদের পরিমাণ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, রাতের অন্ধকারে ট্রলারযোগে তেল এনে সকালে বিভিন্ন ঠিকাদার ও পরিবহন মালিকদের কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করা হতো। এই ঘটনায় আল-আমিন (২৭) এবং মো. মাসুদ (৪০) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল হোতা আলমগীর এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে আলমগীর এতদিন এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। গুদামের জমির মালিক নুর বক্সের দুই ছেলে আরিফ ও আশরাফকেও এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। পতেঙ্গা থানার কর্মকর্তারা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গুদামটি চিহ্নিত করা হয় এবং সেখানে মজুদকৃত তেলের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন সংশ্লিষ্টরা। উদ্ধারকৃত তেলের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা আহমেদ বলেন, “আটক ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অংশ। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন যানবাহন থেকে কম দামে ডিজেল সংগ্রহ করে অবৈধভাবে মজুদ ও বিক্রি করে আসছিল।” পুলিশ আরও জানিয়েছে, আলমগীর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে তেল মজুদ ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ আইন, চোরাচালান বিরোধী আইনসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের মাধ্যমে এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। স্থানীয়দের মতে, পতেঙ্গা–কর্ণফুলী উপকূলে দীর্ঘদিন ধরে চোরাই তেলের একটি সক্রিয় সিন্ডিকেট কাজ করছে এবং এই অভিযান সেই বড় নেটওয়ার্ক উন্মোচনের পথ খুলে দিতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 

























