ঢাকা ০৩:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

নীলফামারীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি

নীলফামারী জেলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট চরমে পৌঁছেছে। জেলার অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে তেল না থাকায় যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কিছু পাম্পে তেল পাওয়া গেলেও সেখানে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও মাত্র ১শ’ বা ২শ’ টাকার বেশি তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যেই কালোবাজারে বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগও উঠেছে, যা জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।

সরকার তেল বিক্রিতে রেশনিং পদ্ধতি তুলে নিলেও জেলার দু’একটি পাম্প ছাড়া প্রায় সব পাম্প মালিক এখনো রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি করছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও অন্যান্য যানবাহনের লম্বা লাইন লেগে আছে। তীব্র গরমে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও অনেকেই তেল পাচ্ছেন না। জেলা শহরের মোটরসাইকেল চালক রাজু আহমেদ জানান, সকাল থেকে তিনটি পাম্প ঘুরে কোথাও তেল পাননি। ইজিবাইক চালক রফিক মিয়া বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে ইজিবাইক নিয়ে ঘুরছি কিন্তু কোথাও তেল পাচ্ছি না। এখানে ১শ’ টাকার তেল পাওয়া যাবে শুনে দাঁড়িয়ে আছি।’

এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। জ্বালানি তেলের সংকট সৃষ্টির পেছনে পাম্প মালিকদের অব্যবস্থাপনা ও সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন অনেকে। জেলার পাম্প মালিকরা ডিপো থেকে সংগৃহীত তেল সরাসরি যানবাহনে বিক্রির পরিবর্তে লাইসেন্সবিহীন খুচরা দোকানগুলোতে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রাতের বেলা এসব তেল বিক্রি করা হচ্ছে এবং খুচরা দোকানগুলোতে পেট্রোল ও অকটেন লিটার প্রতি ২শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাম্প মালিকরা অধিকাংশ তেল এভাবে কালোবাজারে বিক্রি করায় সংকট আরও বাড়ছে।

জ্বালানি তেল সংকট নিয়ে ডিলারদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা কেউ কথা বলতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি পাম্পের ম্যানেজার জানান, ‘আমাদের এখানে ডিজেল সরবরাহ কিছুটা থাকলেও পেট্রোল সরবরাহ একেবারেই বন্ধ। কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে তা আমরা জানি না।’ জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে কৃষি কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ডিজেল চালিত সেচ পাম্পগুলো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে কৃষকরা জানিয়েছেন, এতে সেচের অভাবে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। জেলা ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস, তবে দাখিল পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি

নীলফামারীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি

আপডেট সময় : ০৩:৩৬:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

নীলফামারী জেলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট চরমে পৌঁছেছে। জেলার অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে তেল না থাকায় যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কিছু পাম্পে তেল পাওয়া গেলেও সেখানে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও মাত্র ১শ’ বা ২শ’ টাকার বেশি তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যেই কালোবাজারে বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগও উঠেছে, যা জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।

সরকার তেল বিক্রিতে রেশনিং পদ্ধতি তুলে নিলেও জেলার দু’একটি পাম্প ছাড়া প্রায় সব পাম্প মালিক এখনো রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি করছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও অন্যান্য যানবাহনের লম্বা লাইন লেগে আছে। তীব্র গরমে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও অনেকেই তেল পাচ্ছেন না। জেলা শহরের মোটরসাইকেল চালক রাজু আহমেদ জানান, সকাল থেকে তিনটি পাম্প ঘুরে কোথাও তেল পাননি। ইজিবাইক চালক রফিক মিয়া বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে ইজিবাইক নিয়ে ঘুরছি কিন্তু কোথাও তেল পাচ্ছি না। এখানে ১শ’ টাকার তেল পাওয়া যাবে শুনে দাঁড়িয়ে আছি।’

এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। জ্বালানি তেলের সংকট সৃষ্টির পেছনে পাম্প মালিকদের অব্যবস্থাপনা ও সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন অনেকে। জেলার পাম্প মালিকরা ডিপো থেকে সংগৃহীত তেল সরাসরি যানবাহনে বিক্রির পরিবর্তে লাইসেন্সবিহীন খুচরা দোকানগুলোতে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রাতের বেলা এসব তেল বিক্রি করা হচ্ছে এবং খুচরা দোকানগুলোতে পেট্রোল ও অকটেন লিটার প্রতি ২শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাম্প মালিকরা অধিকাংশ তেল এভাবে কালোবাজারে বিক্রি করায় সংকট আরও বাড়ছে।

জ্বালানি তেল সংকট নিয়ে ডিলারদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা কেউ কথা বলতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি পাম্পের ম্যানেজার জানান, ‘আমাদের এখানে ডিজেল সরবরাহ কিছুটা থাকলেও পেট্রোল সরবরাহ একেবারেই বন্ধ। কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে তা আমরা জানি না।’ জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে কৃষি কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ডিজেল চালিত সেচ পাম্পগুলো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে কৃষকরা জানিয়েছেন, এতে সেচের অভাবে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। জেলা ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।