রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বিগত কয়েক বছর ধরে ঈদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিভিন্ন গ্রামে গড়ে উঠেছে ‘গোশত সমিতি’। এই সমিতিগুলো যেন রোজার ঈদের মধ্যেই কোরবানির আমেজ নিয়ে আসে। ঈদের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে সদস্যরা পশু কেনায় অংশ নেন, যা ঈদের আগে থেকেই উৎসবের আমেজ তৈরি করে। এই উদ্যোগের ফলে এলাকার অসচ্ছল পরিবারগুলো ঈদে বাড়তি আনন্দ পায় এবং তাদের ওপর আর্থিক চাপও কমে আসে। এই সমিতিগুলো সাধারণত ‘গোশত সমিতি’ নামেই পরিচিত।
প্রাথমিকভাবে শুধু নিম্নবিত্ত মানুষেরা এই সমিতিগুলোতে যুক্ত হলেও, বর্তমানে মধ্যবিত্তরাও এর সদস্য হচ্ছেন। শুধু পুরুষরাই নয়, নারীরাও সক্রিয়ভাবে এই সমিতিগুলোতে অংশগ্রহণ করছেন। প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সঞ্চয়ের মাধ্যমে এই সমিতিগুলো নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য এক আশীর্বাদে পরিণত হয়েছে। জানা গেছে, গোদাগাড়ী উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা এলাকায় প্রায় সহস্রাধিক এমন সমিতি গড়ে উঠেছে এবং ‘গোশত সমিতি’ বর্তমানে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
এই সমিতিগুলো ঈদের সময় নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাংসের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সদস্যরা সারা বছর ধরে অল্প অল্প করে টাকা সঞ্চয় করেন এবং ঈদের আগে সেই টাকা দিয়ে পশু কিনে জবাই করে মাংস নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন। এর ফলে, ঈদে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বাড়তি আনন্দ উপভোগ করতে পারে এবং তাদের আর্থিক ব্যয়ও সাশ্রয় হয়।
বাজারে মাংসের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষেরা অনেক সময় বাজার থেকে মাংস কিনতে পারেন না। গত ৫-৭ বছর ধরে এই পরিস্থিতি চলছে। এই সমস্যা মোকাবেলায়, গ্রামীণ মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ ‘গোশত সমিতি’ গঠন করে বছরজুড়ে টাকা জমাচ্ছেন। বছর শেষে তারা নিজেদের জমানো টাকা দিয়ে গরু কিনে মাংস ভাগ করে নিচ্ছেন। এতে করে বাজারে কসাইদের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দামে তারা তাজা মাংস পাচ্ছেন। উপজেলা জুড়ে প্রায় প্রতিটি গ্রামেই এমন একাধিক ‘গোশত সমিতি’ গড়ে উঠেছে। এই সমিতির কারণে পেশাদার মাংস বিক্রেতারা অবশ্য কিছুটা বিপাকে পড়েছেন। তারা জানিয়েছেন, ঈদের মৌসুমে তাদের ব্যবসা আগের তুলনায় অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে।
‘গোশত সমিতি’র সাথে যুক্ত বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঈদুল ফিতর সামনে রেখে এই ধরনের সমিতিগুলো গঠন করা হয়। সাধারণত সমিতির মেয়াদ এক বছর থাকে। সমিতির প্রতিটি সদস্য মাসিক ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সমিতিতে জমা রাখেন। বছর শেষে, ঈদের কয়েকদিন আগে জমাকৃত অর্থ একত্রিত করে পশু কেনা হয়। এরপর পশু জবাই করে সমিতির প্রত্যেক সদস্যকে মাংস ভাগ করে দেওয়া হয়। এর ফলে, ঈদ উদযাপনের ক্ষেত্রে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর আর্থিক চাপ কম পড়ে এবং তারা উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 























