বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ হিসেবে টানা নবমবারের মতো নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে ফিনল্যান্ড। ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট ২০২৬-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, পারস্পরিক আস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দেশটি আবারও সেরার স্বীকৃতি পেয়েছে।
মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা একটি দেশের উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দুটি ক্ষেত্রে নিজেদের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ফিনল্যান্ড আবারও বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের তকমা অর্জন করেছে। দেশে দুর্নীতির হার কম এবং সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা বেশি থাকাও এই স্বীকৃতির পেছনে বড় কারণ। ফিনিশ নাগরিকদের জীবনযাত্রার ভারসাম্য এবং প্রকৃতির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তাদের সুখী জীবনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে বলে মনে করা হয়।
ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট ২০২৬-এ নর্ডিক দেশগুলো আবারও তাদের উন্নত জীবনযাত্রার মান প্রমাণ করেছে। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ডেনমার্ক, এরপর যথাক্রমে আইসল্যান্ড, সুইডেন ও নেদারল্যান্ডস। শীর্ষ দশে আরও রয়েছে নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, ইসরাইল এবং কোস্টারিকা। তবে, প্রতিবেদনে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সুখের হার কমে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যার পেছনে সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহারকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউরোস্ট্যাটের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ইউরোপে বেকারত্বের হারে ফিনল্যান্ডের শীর্ষে থাকার তথ্য উঠে এসেছে। তবে, হ্যাপিনেস রিপোর্ট বলছে, সুখ কেবল আর্থিক সমৃদ্ধি বা আয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। বিশ্লেষকদের মতে, বেকারত্বের প্রভাব সুখী দেশের তালিকায় ফিনল্যান্ডের অবস্থানে তেমন প্রভাব ফেলেনি।
এই স্বীকৃতির প্রতিক্রিয়ায় ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টুব বলেছেন, এর পেছনে কোনো জাদুকরী রহস্য নেই। তবে একটি সমাজ যদি স্বাধীনতা, সমতা ও ন্যায়বিচারের দিকে এগিয়ে যেতে পারে, তবে তা জনগণের সুখ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সুখী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখনো অনেক পিছিয়ে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের অবস্থান প্রায় ১৩০তম। যদিও দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, তবে সামাজিক আস্থা, নিরাপত্তা এবং মানসিক সুস্থতার মতো বিষয়গুলোতে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























