ঢাকা ০২:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা নেই: ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর দাবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২০:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলার ফলে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা আর নেই। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা বিজয়ী হচ্ছি, আর ইরান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত ব্যাপকভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে এবং তা পুরোপুরি ধ্বংস করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ‘আমরা এখন সেই কারখানাগুলো ধ্বংস করছি, যেখানে এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম বানানো হয়। পাশাপাশি, তারা যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে, তার সরঞ্জাম তৈরির কারখানাগুলোও আমরা গুঁড়িয়ে দিচ্ছি।’ তবে, ইরান যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা হারিয়েছে, এমন দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি।

এর আগে, গত মাসে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল–বুসাইদি জানিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত না রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। তবে, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পরই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার শিকার হয়। জবাবে ইরানও ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অন্যান্য দেশে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলেও তারা বাধা সৃষ্টি করছে।

নেতানিয়াহু আরও মন্তব্য করেন যে, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে যুদ্ধ চললেও, সরকার পতনের দাবিতে ইরানিরা রাস্তায় নামবে কি না, তা এখনই বলার সময় আসেনি। তিনি বলেন, ‘এটি প্রমাণ করার দায়িত্ব ইরানের জনগণের ওপরই নির্ভর করছে। সঠিক সময় বেছে নিয়ে তাদেরই রুখে দাঁড়াতে হবে।’ তিনি জানান, যুদ্ধ মূলত আকাশপথেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, স্থল অভিযানেরও প্রয়োজন রয়েছে এবং ‘এই স্থল অভিযানের জন্য অনেক ধরনের বিকল্প আমাদের হাতে আছে,’ তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।

যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে টেনে আনার যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠেছে, সেটিও অস্বীকার করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ‘কেউ কি আসলেই মনে করে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কী করতে হবে, তা অন্য কেউ বলে দিতে পারে?’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ সংকটের প্রভাব পানামা খালে: যাতায়াত ফি বেড়ে ৪০ লাখ ডলার

ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা নেই: ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর দাবি

আপডেট সময় : ১১:২০:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলার ফলে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা আর নেই। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা বিজয়ী হচ্ছি, আর ইরান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত ব্যাপকভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে এবং তা পুরোপুরি ধ্বংস করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ‘আমরা এখন সেই কারখানাগুলো ধ্বংস করছি, যেখানে এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম বানানো হয়। পাশাপাশি, তারা যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে, তার সরঞ্জাম তৈরির কারখানাগুলোও আমরা গুঁড়িয়ে দিচ্ছি।’ তবে, ইরান যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা হারিয়েছে, এমন দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি।

এর আগে, গত মাসে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল–বুসাইদি জানিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত না রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। তবে, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পরই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার শিকার হয়। জবাবে ইরানও ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অন্যান্য দেশে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলেও তারা বাধা সৃষ্টি করছে।

নেতানিয়াহু আরও মন্তব্য করেন যে, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে যুদ্ধ চললেও, সরকার পতনের দাবিতে ইরানিরা রাস্তায় নামবে কি না, তা এখনই বলার সময় আসেনি। তিনি বলেন, ‘এটি প্রমাণ করার দায়িত্ব ইরানের জনগণের ওপরই নির্ভর করছে। সঠিক সময় বেছে নিয়ে তাদেরই রুখে দাঁড়াতে হবে।’ তিনি জানান, যুদ্ধ মূলত আকাশপথেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, স্থল অভিযানেরও প্রয়োজন রয়েছে এবং ‘এই স্থল অভিযানের জন্য অনেক ধরনের বিকল্প আমাদের হাতে আছে,’ তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।

যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে টেনে আনার যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠেছে, সেটিও অস্বীকার করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ‘কেউ কি আসলেই মনে করে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কী করতে হবে, তা অন্য কেউ বলে দিতে পারে?’