ঢাকা ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত হবে সাগরকন্যা কুয়াকাটা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি ঘিরে পর্যটকদের বরণে পুরোপুরি প্রস্তুত দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র, সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের অনন্য বেলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটা। রমজান মাসজুড়ে পর্যটকশূন্য থাকায় কিছুটা নীরব থাকলেও, ঈদের ছুটিতে লাখো পর্যটকের পদচারণায় এ পর্যটন নগরী মুখর হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

ইতিমধ্যে কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে ধোয়া-মোছা, রং-তুলির কাজ সম্পন্ন করে কক্ষগুলো নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। পাশাপাশি সৈকতের জিরো পয়েন্ট, তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, শুঁটকিপল্লি, ঝাউ বাগান, গঙ্গামতি, চর গঙ্গামতি, লাল কাঁকড়ার চর, কাউয়ার চর, মিনি সুইজারল্যান্ড, রাখাইন মার্কেট, সীমা বৌদ্ধ মন্দির ও শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ মন্দিরসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

পর্যটন-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটায় ২২০টিরও বেশি আবাসিক হোটেলে প্রায় ২৫-৩০ হাজার পর্যটকের ধারণক্ষমতা থাকলেও ঈদের ছুটিতে দৈনিক পর্যটক সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে প্রথম শ্রেণির হোটেলগুলোর ৬০-৭০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোর প্রায় ৪০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। অনেক পর্যটক দিনব্যাপী ঘুরে রাতে নিজ গন্তব্যে ফিরে গেলেও, অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে সৈকতসংলগ্ন বাসাবাড়িতেও রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

তবে পরিবহন ও জ্বালানি সংকট নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও, যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে এবারের ঈদে পর্যটক আগমনের আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের তথ্যমতে, দীর্ঘদিন পর্যটকের চাপ না থাকায় কুয়াকাটার ১৮ কিলোমিটার সৈকত এখন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। বালুচরে লতা-গুল্মের বিস্তার, নতুন ফুলের সমাহার, আর লাল কাঁকড়ার অবাধ বিচরণ সৈকতজুড়ে তৈরি করেছে ভিন্ন এক নান্দনিক পরিবেশ। শীতের শেষে ও বর্ষার শুরুতে উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ এবং জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠবে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

হোটেল ডি মোর-এর অপারেশন ম্যানেজার জয়নুল আবেদীন জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রমজানের মন্দা কাটিয়ে এবার তারা ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। পর্যটকদের বাড়তি সেবায় সুইমিং পুল ও বিনোদনের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কেএম জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতা উন্নত করতে তারা প্রস্তুত আছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে ইরানের হুঁশিয়ারি: মিত্রতা পুনর্বিবেচনার আহ্বান

ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত হবে সাগরকন্যা কুয়াকাটা

আপডেট সময় : ১১:১৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি ঘিরে পর্যটকদের বরণে পুরোপুরি প্রস্তুত দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র, সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের অনন্য বেলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটা। রমজান মাসজুড়ে পর্যটকশূন্য থাকায় কিছুটা নীরব থাকলেও, ঈদের ছুটিতে লাখো পর্যটকের পদচারণায় এ পর্যটন নগরী মুখর হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

ইতিমধ্যে কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে ধোয়া-মোছা, রং-তুলির কাজ সম্পন্ন করে কক্ষগুলো নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। পাশাপাশি সৈকতের জিরো পয়েন্ট, তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, শুঁটকিপল্লি, ঝাউ বাগান, গঙ্গামতি, চর গঙ্গামতি, লাল কাঁকড়ার চর, কাউয়ার চর, মিনি সুইজারল্যান্ড, রাখাইন মার্কেট, সীমা বৌদ্ধ মন্দির ও শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ মন্দিরসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

পর্যটন-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটায় ২২০টিরও বেশি আবাসিক হোটেলে প্রায় ২৫-৩০ হাজার পর্যটকের ধারণক্ষমতা থাকলেও ঈদের ছুটিতে দৈনিক পর্যটক সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে প্রথম শ্রেণির হোটেলগুলোর ৬০-৭০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোর প্রায় ৪০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। অনেক পর্যটক দিনব্যাপী ঘুরে রাতে নিজ গন্তব্যে ফিরে গেলেও, অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে সৈকতসংলগ্ন বাসাবাড়িতেও রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

তবে পরিবহন ও জ্বালানি সংকট নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও, যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে এবারের ঈদে পর্যটক আগমনের আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের তথ্যমতে, দীর্ঘদিন পর্যটকের চাপ না থাকায় কুয়াকাটার ১৮ কিলোমিটার সৈকত এখন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। বালুচরে লতা-গুল্মের বিস্তার, নতুন ফুলের সমাহার, আর লাল কাঁকড়ার অবাধ বিচরণ সৈকতজুড়ে তৈরি করেছে ভিন্ন এক নান্দনিক পরিবেশ। শীতের শেষে ও বর্ষার শুরুতে উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ এবং জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠবে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

হোটেল ডি মোর-এর অপারেশন ম্যানেজার জয়নুল আবেদীন জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রমজানের মন্দা কাটিয়ে এবার তারা ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। পর্যটকদের বাড়তি সেবায় সুইমিং পুল ও বিনোদনের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কেএম জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতা উন্নত করতে তারা প্রস্তুত আছেন।