ঢাকা ০৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

কাতারের গ্যাস স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: জ্বালানি সংকটের ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

কাতারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ১৯ মার্চ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই হামলার ফলে বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ নিয়ে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি পরিচালিত এই রাস লাফান কেন্দ্রটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান এলএনজি হাব, যেখান থেকে বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এই স্থাপনায় হামলার সরাসরি প্রভাব এখন মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

জ্বালানি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার ও এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান তাদের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ৯৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশ প্রায় ৭০ শতাংশই কাতার থেকে সংগ্রহ করে থাকে। অন্যদিকে, ভারতের এলএনজি চাহিদার ৪০ শতাংশেরও বেশি মেটায় কাতার। রাস লাফান কেন্দ্রটি মূলত কাতারের প্রায় সব প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানির একমাত্র পথ হওয়ায় এখানে হামলার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের এলএনজি মজুত অত্যন্ত সীমিত, যা বড়জোর এক থেকে দুই সপ্তাহ চলতে পারে। ফলে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই দুই দেশে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং শিল্প-কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

চলতি মাসের শুরুতে রক্ষণাবেক্ষণের কারণে রাস লাফান কেন্দ্রে উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কারণে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে আরও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের এই অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে তুলবে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাংলাদেশসহ জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতের ওপর এই সংকটের প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইরানকে দমানোর সক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র’

কাতারের গ্যাস স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: জ্বালানি সংকটের ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া

আপডেট সময় : ০৮:৪৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

কাতারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ১৯ মার্চ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই হামলার ফলে বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ নিয়ে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি পরিচালিত এই রাস লাফান কেন্দ্রটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান এলএনজি হাব, যেখান থেকে বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এই স্থাপনায় হামলার সরাসরি প্রভাব এখন মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

জ্বালানি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার ও এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান তাদের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ৯৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশ প্রায় ৭০ শতাংশই কাতার থেকে সংগ্রহ করে থাকে। অন্যদিকে, ভারতের এলএনজি চাহিদার ৪০ শতাংশেরও বেশি মেটায় কাতার। রাস লাফান কেন্দ্রটি মূলত কাতারের প্রায় সব প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানির একমাত্র পথ হওয়ায় এখানে হামলার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের এলএনজি মজুত অত্যন্ত সীমিত, যা বড়জোর এক থেকে দুই সপ্তাহ চলতে পারে। ফলে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই দুই দেশে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং শিল্প-কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

চলতি মাসের শুরুতে রক্ষণাবেক্ষণের কারণে রাস লাফান কেন্দ্রে উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কারণে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে আরও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের এই অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে তুলবে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাংলাদেশসহ জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতের ওপর এই সংকটের প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।