ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, এই অঞ্চলে কোনো ধরনের পারমাণবিক দুর্ঘটনা বা হামলা ঘটলে তার ফলাফল হবে অত্যন্ত ভয়াবহ এবং এর প্রভাব কয়েক দশক ধরে বজায় থাকতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক হানান বলখি এক সাক্ষাৎকারে জানান, পারমাণবিক বিকিরণের ঝুঁকি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুতি নিলেও এমন পরিস্থিতির ক্ষয়ক্ষতি পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। তিনি বিষয়টিকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবে অভিহিত করেন। বলখির মতে, এ ধরনের বিপর্যয় কেবল তাৎক্ষণিক প্রাণহানি ঘটায় না, বরং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না দিলেও তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃত। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দীর্ঘকাল ধরে বিতর্ক চললেও আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার মতে, দেশটি এখনো পারমাণবিক বোমা তৈরির স্তরে পৌঁছায়নি।
উল্লেখ্য যে, গত বছরের জুনে ইরানের নাতাঞ্জ, ইস্পাহান ও ফোরদোর মতো গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময়ের ভয়াবহতা এবং ১৯৪৫ সালে জাপানে পারমাণবিক হামলা ও ১৯৮৬ সালের চেরনোবিল ট্র্যাজেডির উদাহরণ টেনে ডব্লিউএইচও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক মন্তব্যে বলেছেন, ইসরায়েল এই অঞ্চলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না বলে তিনি মনে করেন। তবে সার্বিক ঝুঁকি বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিভিন্ন দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে, যাতে সম্ভাব্য যেকোনো সংকট মোকাবিলা করা যায়।
রিপোর্টারের নাম 
























