ঢাকা ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

জাতিসংঘে বাংলাদেশের যুগান্তকারী সাফল্য: টেকসই বায়োইকোনমি রেজুলেশন গৃহীত

জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (UN ESCAP) ৮২তম অধিবেশনে বাংলাদেশের নেতৃত্বে একটি যুগান্তকারী রেজুলেশন গৃহীত হয়েছে, যা টেকসই বায়োইকোনমি বা জৈব অর্থনীতির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল এই রেজুলেশন উত্থাপন করে এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সর্বসম্মত সমর্থনে এটি গৃহীত হয়। এই অর্জন আঞ্চলিক উন্নয়ন এজেন্ডা নির্ধারণে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান নেতৃত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

“Supporting the Transition Towards a Sustainable Bioeconomy in Asia and the Pacific,” শীর্ষক এই রেজুলেশনটি বাংলাদেশের উদ্যোগে উত্থাপিত হয় এবং এটি এ অঞ্চলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতার এক বড় স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রেজুলেশনটি বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকার—টেকসই, উদ্ভাবননির্ভর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে সার্কুলার অর্থনীতি, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

এছাড়াও, এই রেজুলেশনে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে জ্ঞান বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং টেকসই বায়োইকোনমি ভ্যালু চেইন গড়ে তুলতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী Faqir Mahbub Anam বলেন, “বায়োইকোনমি শুধু একটি নতুন ধারণা নয়; এটি জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার একটি কার্যকর পথ।”

বাংলাদেশের এই উদ্যোগে সহ-স্পন্সর হিসেবে ভারত, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান, চীন, মঙ্গোলিয়া, আর্মেনিয়া ও কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশ সমর্থন দিয়েছে, যা টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আঞ্চলিক ঐক্যমতের প্রতিফলন। এই অধিবেশনে ‘সব বয়সের মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সামাজিক উন্নয়ন জোরদার’ বিষয়ে বাকু-ব্যাংকক ঘোষণাও গৃহীত হয়েছে, যা অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সামাজিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ধামরাইয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদা হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার ঘাতক

জাতিসংঘে বাংলাদেশের যুগান্তকারী সাফল্য: টেকসই বায়োইকোনমি রেজুলেশন গৃহীত

আপডেট সময় : ০৩:১৪:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (UN ESCAP) ৮২তম অধিবেশনে বাংলাদেশের নেতৃত্বে একটি যুগান্তকারী রেজুলেশন গৃহীত হয়েছে, যা টেকসই বায়োইকোনমি বা জৈব অর্থনীতির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল এই রেজুলেশন উত্থাপন করে এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সর্বসম্মত সমর্থনে এটি গৃহীত হয়। এই অর্জন আঞ্চলিক উন্নয়ন এজেন্ডা নির্ধারণে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান নেতৃত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

“Supporting the Transition Towards a Sustainable Bioeconomy in Asia and the Pacific,” শীর্ষক এই রেজুলেশনটি বাংলাদেশের উদ্যোগে উত্থাপিত হয় এবং এটি এ অঞ্চলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতার এক বড় স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রেজুলেশনটি বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকার—টেকসই, উদ্ভাবননির্ভর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে সার্কুলার অর্থনীতি, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

এছাড়াও, এই রেজুলেশনে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে জ্ঞান বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং টেকসই বায়োইকোনমি ভ্যালু চেইন গড়ে তুলতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী Faqir Mahbub Anam বলেন, “বায়োইকোনমি শুধু একটি নতুন ধারণা নয়; এটি জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার একটি কার্যকর পথ।”

বাংলাদেশের এই উদ্যোগে সহ-স্পন্সর হিসেবে ভারত, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান, চীন, মঙ্গোলিয়া, আর্মেনিয়া ও কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশ সমর্থন দিয়েছে, যা টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আঞ্চলিক ঐক্যমতের প্রতিফলন। এই অধিবেশনে ‘সব বয়সের মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সামাজিক উন্নয়ন জোরদার’ বিষয়ে বাকু-ব্যাংকক ঘোষণাও গৃহীত হয়েছে, যা অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সামাজিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।