ঢাকা ০৫:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ইরান যুদ্ধ ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষকে চরম খাদ্যসংকটে ফেলতে পারে

ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ চরম খাদ্যসংকটের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি)। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ত্রাণ সরবরাহের পথগুলো অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, যা জীবনরক্ষাকারী সামগ্রী পরিবহনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। ডব্লিউএফপি-এর নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সামরিক অভিযান আগামী জুন মাস পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, তবে খাদ্য, জ্বালানি এবং জাহাজ ভাড়ার অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে বিশ্বব্যাপী ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বর্তমান রেকর্ড ৩১ কোটি ৯০ লাখের সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

জেনিভায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ডব্লিউএফপি-এর উপ-নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পণ্য পরিবহনের খরচ ইতোমধ্যে ১৮ শতাংশ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে লোহিত সাগর এবং পারস্য উপসাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে ঝুঁকি বাড়ায় অনেক জাহাজকে বিকল্প দীর্ঘ পথে চলাচল করতে হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ভারত থেকে সুদান পর্যন্ত পণ্য পৌঁছাতে এখন অতিরিক্ত ৯ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে, যা খরচ ও সময় দুই-ই বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া অনেক দাতা দেশ এখন মানবিক সাহায্যের পরিবর্তে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াতে বাধ্য হওয়ায় ডব্লিউএফপি-এর বাজেটেও কাটছাঁট করতে হচ্ছে।

ডব্লিউএফপি আরও জানিয়েছে যে, জ্বালানি সংকটের কারণে শুধু পরিবহণই নয়, বরং সার উৎপাদন ও স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়েছে। সাব-সাহারা আফ্রিকা থেকে শুরু করে এশিয়ার আমদানিনির্ভর দেশগুলো এই সংকটের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বৈশ্বিক সার সরবরাহের প্রায় এক-চতুর্থাংশ হরমোজ প্রণালীর মাধ্যমে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে প্রায় স্থবির হয়ে আছে। যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিশ্ব এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে বলে মনে করছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইরানকে দমানোর সক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র’

ইরান যুদ্ধ ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষকে চরম খাদ্যসংকটে ফেলতে পারে

আপডেট সময় : ০৯:০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ চরম খাদ্যসংকটের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি)। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ত্রাণ সরবরাহের পথগুলো অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, যা জীবনরক্ষাকারী সামগ্রী পরিবহনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। ডব্লিউএফপি-এর নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সামরিক অভিযান আগামী জুন মাস পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, তবে খাদ্য, জ্বালানি এবং জাহাজ ভাড়ার অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে বিশ্বব্যাপী ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বর্তমান রেকর্ড ৩১ কোটি ৯০ লাখের সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

জেনিভায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ডব্লিউএফপি-এর উপ-নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পণ্য পরিবহনের খরচ ইতোমধ্যে ১৮ শতাংশ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে লোহিত সাগর এবং পারস্য উপসাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে ঝুঁকি বাড়ায় অনেক জাহাজকে বিকল্প দীর্ঘ পথে চলাচল করতে হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ভারত থেকে সুদান পর্যন্ত পণ্য পৌঁছাতে এখন অতিরিক্ত ৯ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে, যা খরচ ও সময় দুই-ই বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া অনেক দাতা দেশ এখন মানবিক সাহায্যের পরিবর্তে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াতে বাধ্য হওয়ায় ডব্লিউএফপি-এর বাজেটেও কাটছাঁট করতে হচ্ছে।

ডব্লিউএফপি আরও জানিয়েছে যে, জ্বালানি সংকটের কারণে শুধু পরিবহণই নয়, বরং সার উৎপাদন ও স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়েছে। সাব-সাহারা আফ্রিকা থেকে শুরু করে এশিয়ার আমদানিনির্ভর দেশগুলো এই সংকটের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বৈশ্বিক সার সরবরাহের প্রায় এক-চতুর্থাংশ হরমোজ প্রণালীর মাধ্যমে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে প্রায় স্থবির হয়ে আছে। যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিশ্ব এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে বলে মনে করছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।