অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহার করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আরও তিন ইরানি নারী ফুটবলার। ক্যানবেরা কর্তৃপক্ষ গতকাল রোববার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর ফলে উইমেন’স এশিয়ান কাপে অংশ নিতে এসে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়া সাতজন ইরানি ফুটবলারের মধ্যে বর্তমানে মাত্র তিনজন দেশটিতে অবস্থান করছেন।
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিষয়ক কর্মকর্তা টনি বার্ক এক বিবৃতিতে জানান, গত রাতে ইরান নারী ফুটবল দলের তিন সদস্য তাদের সতীর্থদের সঙ্গে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, খেলোয়াড়েরা তাদের সিদ্ধান্ত জানানোর পর অস্ট্রেলিয়ান কর্মকর্তারা তাদের ভবিষ্যৎ এবং সম্ভাব্য বিকল্প পথগুলো পুনর্বিবেচনার সুযোগ দিয়েছিলেন। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে আরও একজন খেলোয়াড় তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই নারী ফুটবলারদের সাহসিকতার প্রশংসা করে জানিয়েছিলেন, তাদের অস্ট্রেলিয়ায় সাদরে গ্রহণ করা হবে। তবে ইরানের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলোয়াড়দের ‘অপহরণ’ এবং তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে মাতৃভূমি ত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ এনেছে।
উল্লেখ্য, টুর্নামেন্টের একটি ম্যাচ শুরুর সময় ইরানি খেলোয়াড়েরা জাতীয় সংগীতে নীরব ছিলেন, যা দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের একজন উপস্থাপক তাদের ‘যুদ্ধকালীন দেশদ্রোহী’ আখ্যা দেন, যার ফলে দেশে ফিরে তাদের নিপীড়ন বা বিপদের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, বিদেশে অবস্থানরত ইরানি ক্রীড়াবিদেরা যদি দলত্যাগ বা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তবে তাদের আত্মীয়স্বজনের ওপর চাপ সৃষ্টি বা সম্পদ বাজেয়াপ্তের হুমকি দেওয়া হয়। বর্তমানে এই তিন খেলোয়াড় এবং একজন টেকনিক্যাল স্টাফ মালয়েশিয়ার পথে রয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 






















