মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিশোরগঞ্জের প্রবাসীর মৃত্যু, পরিবারে শোকের মাতম

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৭:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

সৌদি আরবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার প্রবাসী বাচ্চু মিয়া নিহত হয়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তার পরিবার এখন দিশেহারা। সন্তানদের লেখাপড়াসহ পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ এখন এক অনিশ্চিত গন্তব্যে।

নিহত বাচ্চু মিয়া রেখে গেছেন তার বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েকে। এদের মধ্যে ছোট মেয়ে একজন প্রতিবন্ধী। প্রিয়জনকে হারানোর শোকে পরিবারের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। সন্তানদের চোখের জল এখনও থামেনি। পরিবারের একমাত্র আশ্রয় ও উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নিহত বাচ্চু মিয়া উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফেকামারা গ্রামের মৃত রইছ উদ্দিনের ছেলে।

জানা যায়, তিন ভাইয়ের মধ্যে বাচ্চু মিয়ার পরিবারের সম্বল ছিল মাত্র চার শতক ভিটা। এক শতাংশ জমির ওপর নির্মিত ১৬ টিনের দোচালা ঘরে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। জীবিকার তাগিদে কয়েক বছর আগে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং সেখানে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের ভরণপোষণ চালিয়ে আসছিলেন।

হঠাৎ করে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে। বাচ্চু মিয়া ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এবং তার উপার্জনের ওপরই পুরো সংসার চলত। তাকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। কে ধরবে এই সংসারের হাল, এই প্রশ্নই এখন সবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।

নিহতের বড় ছেলে মো. তাহসিন (১৫) দশম শ্রেণিতে, মেয়ে মোছা. ছিদ্দিকা (১৩) সপ্তম শ্রেণিতে এবং ছোট মেয়ে মোছা. খাদিজা আক্তার প্রথম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে।

বাচ্চু মিয়ার বড় মেয়ে ছিদ্দিকা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এখন আমাদের খোঁজখবর কে নেবে? বাবা তো আর ফোনে আমার সঙ্গে কথা বলবে না। আমরা কি আর বাবার লাশটা শেষবারের মতো দেখতে পারব না? আমার আব্বার লাশটা দেশে এনে দিন।’

নিহতের স্ত্রী জোছনা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামীই ছিল আমাদের পরিবারের একমাত্র ভরসা। বিদেশে কষ্ট করে উপার্জন করত, সেই টাকায় আমাদের সংসার চলত। এখন তাকে হারিয়ে আমরা পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছি। সন্তানদের লেখাপড়া কীভাবে চালাব, সংসার কীভাবে চলবে কিছুই বুঝতে পারছি না।’

ঘটনার পর কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নিহতের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা, জামায়াতে ইসলামী পক্ষ থেকে ১১ হাজার টাকা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ১৫ হাজার টাকা এবং দুই বান টিন প্রদান করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু পরিস্থিতি: ২৪ ঘণ্টায় তিন মৃত্যু, হাসপাতালে ৫৮০ নতুন রোগী

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিশোরগঞ্জের প্রবাসীর মৃত্যু, পরিবারে শোকের মাতম

আপডেট সময় : ০৪:০৭:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

সৌদি আরবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার প্রবাসী বাচ্চু মিয়া নিহত হয়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তার পরিবার এখন দিশেহারা। সন্তানদের লেখাপড়াসহ পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ এখন এক অনিশ্চিত গন্তব্যে।

নিহত বাচ্চু মিয়া রেখে গেছেন তার বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েকে। এদের মধ্যে ছোট মেয়ে একজন প্রতিবন্ধী। প্রিয়জনকে হারানোর শোকে পরিবারের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। সন্তানদের চোখের জল এখনও থামেনি। পরিবারের একমাত্র আশ্রয় ও উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নিহত বাচ্চু মিয়া উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফেকামারা গ্রামের মৃত রইছ উদ্দিনের ছেলে।

জানা যায়, তিন ভাইয়ের মধ্যে বাচ্চু মিয়ার পরিবারের সম্বল ছিল মাত্র চার শতক ভিটা। এক শতাংশ জমির ওপর নির্মিত ১৬ টিনের দোচালা ঘরে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। জীবিকার তাগিদে কয়েক বছর আগে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং সেখানে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের ভরণপোষণ চালিয়ে আসছিলেন।

হঠাৎ করে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে। বাচ্চু মিয়া ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এবং তার উপার্জনের ওপরই পুরো সংসার চলত। তাকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। কে ধরবে এই সংসারের হাল, এই প্রশ্নই এখন সবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।

নিহতের বড় ছেলে মো. তাহসিন (১৫) দশম শ্রেণিতে, মেয়ে মোছা. ছিদ্দিকা (১৩) সপ্তম শ্রেণিতে এবং ছোট মেয়ে মোছা. খাদিজা আক্তার প্রথম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে।

বাচ্চু মিয়ার বড় মেয়ে ছিদ্দিকা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এখন আমাদের খোঁজখবর কে নেবে? বাবা তো আর ফোনে আমার সঙ্গে কথা বলবে না। আমরা কি আর বাবার লাশটা শেষবারের মতো দেখতে পারব না? আমার আব্বার লাশটা দেশে এনে দিন।’

নিহতের স্ত্রী জোছনা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামীই ছিল আমাদের পরিবারের একমাত্র ভরসা। বিদেশে কষ্ট করে উপার্জন করত, সেই টাকায় আমাদের সংসার চলত। এখন তাকে হারিয়ে আমরা পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছি। সন্তানদের লেখাপড়া কীভাবে চালাব, সংসার কীভাবে চলবে কিছুই বুঝতে পারছি না।’

ঘটনার পর কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নিহতের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা, জামায়াতে ইসলামী পক্ষ থেকে ১১ হাজার টাকা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ১৫ হাজার টাকা এবং দুই বান টিন প্রদান করেছেন।