মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৩:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কটিয়াদীর যুবকের মৃত্যু

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরের কাছে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সৌদি প্রবাসী ৪০ বছর বয়সী বাচ্চু মিয়া নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক সংবাদ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত বাচ্চু মিয়া উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফেকামারা গ্রামের রইছ উদ্দিনের ছেলে।

জানা যায়, রোববার ইফতারের কিছুক্ষণ আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ শহরের সন্নিকটে আল খারিজ শহরে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির কাছে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্পে মিসাইল হামলা হয়। এই হামলায় বাচ্চু মিয়া সহ বেশ কয়েকজন নিহত হন। সৌদি আরবে বাচ্চু মিয়ার মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আফরোজ মারলিজ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল খায়ের, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আজিজুল হক এবং জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম নিহতের বাড়িতে ছুটে যান এবং পরিবারকে সরকারিভাবে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

বাচ্চু মিয়া দেশে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। সংসারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে আট বছর আগে ধারদেনা করে তিনি সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। নিহতের স্ত্রী জোৎস্না আক্তার জানান, তিনি আসন্ন কোরবানির ঈদে দেশে ফেরার কথা জানিয়েছিলেন। ঘটনার দিন রোববার বিকেলে তিনি শেষবারের মতো স্বামীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। কথা বলার সময় বাচ্চুকে বেশ উদ্বিগ্ন মনে হয়েছিল এবং তিনি দ্রুত ইফতার ও ছেলেমেয়েদের খোঁজখবর জিজ্ঞেস করে ফোন রেখে দেন। এর আগে তিনি কখনো এভাবে কথা বলেননি। জোৎস্না আক্তার তার স্বামীর উদ্বিগ্নতার কারণ জানতে পুনরায় ফোন করার চেষ্টা করেন, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। তার ফোন বন্ধ থাকায় বাড়িতে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে। রাত সাড়ে নয়টার দিকে সৌদি আরব থেকে তার সহকর্মী বিল্লাল মিয়া কিশোরগঞ্জের সুজন মিয়ার মাধ্যমে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। এই খবর শুনে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়ে। তারা সরকারের কাছে স্বামীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

তাদের তিন সন্তান রয়েছে, যার মধ্যে দুই মেয়ে ও এক ছেলে। ছোট মেয়ে প্রতিবন্ধী। ধারদেনা করে সৌদি আরবে গিয়েও সেই ঋণ এখনো পরিশোধ হয়নি। এমতাবস্থায় এতিম সন্তানদের নিয়ে কীভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন জোৎস্না আক্তার। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আফরোজ মারলিজ জানিয়েছেন, ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সন্ত্রাস বরদাশত করা হবে না: মামুনুল হক

সৌদি আরবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কটিয়াদীর যুবকের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৪:০৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরের কাছে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সৌদি প্রবাসী ৪০ বছর বয়সী বাচ্চু মিয়া নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক সংবাদ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত বাচ্চু মিয়া উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফেকামারা গ্রামের রইছ উদ্দিনের ছেলে।

জানা যায়, রোববার ইফতারের কিছুক্ষণ আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ শহরের সন্নিকটে আল খারিজ শহরে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির কাছে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্পে মিসাইল হামলা হয়। এই হামলায় বাচ্চু মিয়া সহ বেশ কয়েকজন নিহত হন। সৌদি আরবে বাচ্চু মিয়ার মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আফরোজ মারলিজ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল খায়ের, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আজিজুল হক এবং জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম নিহতের বাড়িতে ছুটে যান এবং পরিবারকে সরকারিভাবে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

বাচ্চু মিয়া দেশে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। সংসারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে আট বছর আগে ধারদেনা করে তিনি সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। নিহতের স্ত্রী জোৎস্না আক্তার জানান, তিনি আসন্ন কোরবানির ঈদে দেশে ফেরার কথা জানিয়েছিলেন। ঘটনার দিন রোববার বিকেলে তিনি শেষবারের মতো স্বামীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। কথা বলার সময় বাচ্চুকে বেশ উদ্বিগ্ন মনে হয়েছিল এবং তিনি দ্রুত ইফতার ও ছেলেমেয়েদের খোঁজখবর জিজ্ঞেস করে ফোন রেখে দেন। এর আগে তিনি কখনো এভাবে কথা বলেননি। জোৎস্না আক্তার তার স্বামীর উদ্বিগ্নতার কারণ জানতে পুনরায় ফোন করার চেষ্টা করেন, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। তার ফোন বন্ধ থাকায় বাড়িতে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে। রাত সাড়ে নয়টার দিকে সৌদি আরব থেকে তার সহকর্মী বিল্লাল মিয়া কিশোরগঞ্জের সুজন মিয়ার মাধ্যমে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। এই খবর শুনে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়ে। তারা সরকারের কাছে স্বামীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

তাদের তিন সন্তান রয়েছে, যার মধ্যে দুই মেয়ে ও এক ছেলে। ছোট মেয়ে প্রতিবন্ধী। ধারদেনা করে সৌদি আরবে গিয়েও সেই ঋণ এখনো পরিশোধ হয়নি। এমতাবস্থায় এতিম সন্তানদের নিয়ে কীভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন জোৎস্না আক্তার। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আফরোজ মারলিজ জানিয়েছেন, ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।