টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামার আগে ভারতীয় শিবিরে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন চিত্র। প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দিতে চলেছেন সূর্যকুমার যাদব, অথচ তার চোখেমুখে ক্লান্তি বা দুশ্চিন্তার লেশমাত্র নেই। বরং এক ফুরফুরে মেজাজে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে তিনি জানিয়ে দিলেন, প্রতিপক্ষের হুমকি, পিচের আচরণ, টস বা শিশিরের প্রভাব—সবকিছু সামলে নেওয়ার জন্য তার দল সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্স থেকে শুরু করে নিউজিল্যান্ডের মিচেল স্যান্টনার—প্রতিপক্ষের ক্রিকেটাররা আহমেদাবাদের বিশাল গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দেওয়ার যে হুমকি দিচ্ছেন, সে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সূর্যকুমার হাসতে হাসতে বলেন, “সবাই তো একই কথা বলছে, নতুন কিছু বলুন।” তার কথায় স্পষ্ট, এসব হুমকি ভারতীয় দলের মানসিকতায় কোনো প্রভাব ফেলছে না। দেশের মাটিতে, এমন একটি অসাধারণ স্টেডিয়ামে ফাইনাল খেলতে পারা তার কাছে বিশেষ সম্মানের বিষয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভারতের বর্তমান দলে এমন অনেক ক্রিকেটার আছেন যারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে নামছেন। তবে সূর্যকুমার মনে করেন, আইপিএল বা অন্যান্য ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলার সুবাদে তাদের মধ্যে চাপ সামলানোর সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। অধিনায়কের ভাষায়, “চাপ সামলানো নির্ভর করে আপনি কঠিন পরিস্থিতিতে কতটা শান্ত থাকছেন তার ওপর। অনুশীলনে যারা নিজেদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে—যেমন ফিল্ডিংয়ে সেরাটা দেওয়া বা ব্যাটিংয়ের সময় নির্দিষ্ট কোনো পরিস্থিতি মাথায় রেখে খেলা—ম্যাচে নামলে তাদের জন্য বিষয়টা অনেক সহজ হয়ে যায়। তারা বোঝে, এই কাজগুলো তারা আগেই করেছে।”
শিরোপা জয়ের জন্য অভিজ্ঞতার গুরুত্ব অপরিসীম। ভারতীয় দলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপস্থিতি তাই বাড়তি সুবিধা দেবে বলেই মনে করেন সূর্যকুমার। তিনি বলেন, “আমাদের দলে এমন অনেক ক্রিকেটার আছে যারা ফাইনাল খেলেছে। তারা ইতোমধ্যেই যথেষ্ট অভিজ্ঞ। আমাদের কোচও একটি ফাইনাল খেলেছেন। বুমরাহ, হার্দিক, অক্ষরের মতো খেলোয়াড়রা আইসিসির টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা রাখে। তাই তাদের সঙ্গে কথা বলে অনেক উপকার হয়। বাসে যেতে যেতে বা নৈশভোজের সময় আমরা এসব নিয়েই আলোচনা করি। তাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে। অভিজ্ঞতার দাম তো আছেই।”
নিজের নেতৃত্ব দর্শন সম্পর্কে সূর্যকুমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি দলের ‘বড় ভাই’ বা ‘বাবা’ হয়ে ওঠার চেষ্টা করেননি। তার মতে, “বড় ভাই বা বাবা হয়ে কিছুই হবে না। ক্রিকেটারদের কখনো কানমূলে কোনো কাজ করানো যায় না। তাদের স্বাধীনতা দিতে হবে। অবশ্যই তাদের সঙ্গে কথাবার্তা হয়, তবে আমার মূল মন্ত্র হলো, সবাইকে স্বাধীনতা দাও। আমি তাদের বলি, যেভাবে সফল হয়েছ সেই কাজই করো।”
এবারের বিশ্বকাপে ভারতের বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যানরা অফস্পিনারদের বিপক্ষে কিছুটা ভুগেছেন, ১৫টি উইকেট হারিয়েছেন তারা। ফাইনালে নিউজিল্যান্ড দলে রয়েছেন চারজন অফস্পিনার। এই চ্যালেঞ্জ কীভাবে সামলাবে ভারত? এমন প্রশ্নের উত্তরে সূর্যকুমার অভয় দিয়ে বলেন, “আগের ম্যাচেই আপনারা দেখেছেন যে আমাদের দুই বাঁ-হাতি কীভাবে অফস্পিনারদের সামলেছে। ঈশান খুব ভালো ব্যাট করেছে। শিবম দুবে, তিলক বার্মাও ভালো খেলেছে। এই মুহূর্তে এত ভাবার প্রয়োজন নেই। যখন ফাইনালে উঠেছি, তখন ভালো খেলতেই হবে। ফিরে তো আর আসতে পারব না। কাল আমরা ঠিকই সামলে নেব।”
রিপোর্টারের নাম 























