ঢাকা ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

সড়ক দখল নিয়ে প্রতিবেদন, সাংবাদিককে হেনস্থার অভিযোগ

রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় সড়ক দখল সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে এক ঊর্ধ্বতন সাংবাদিককে দলবদ্ধভাবে হেনস্থা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সন্ধ্যায় নিকুঞ্জের জামতলার জাহিদ ইকবাল চত্বর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর খিলক্ষেত থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির আহ্বায়ক এবং সিনিয়র সাংবাদিক জাহিদ ইকবাল নিকুঞ্জের জামতলা এলাকার সড়ক দখল নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন। এই সড়কটি এমনিতেই সরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে প্রায়শই সমস্যা হয়। এর মধ্যে সড়কের একটি অংশ দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করায় পথটি আরও সংকুচিত হয়ে পড়ে। এই দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলামের ছেলে মো. সবুজসহ প্রায় ৩০ জন যুবক দলবদ্ধভাবে সাংবাদিক জাহিদ ইকবালকে ঘিরে ধরে হেনস্থা করে বলে অভিযোগ। এ সময় সেখানে উপস্থিত তার কয়েকজন বন্ধুকেও ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়া হয়।

ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অভিযুক্ত যুবকদের একটি দল সাংবাদিক জাহিদ ইকবালকে ঘিরে ধরে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক জাহিদ ইকবাল জানান, তার প্রতিবেদন প্রকাশের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, “রাস্তার একটি অংশ দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর কিছু ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে আমার ওপর চড়াও হয়।”

প্রত্যক্ষদর্শী মতিউর রহমান স্বপন জানান, “কিছু উশৃঙ্খল যুবক সড়ক দখলের বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ মুছে ফেলার জন্য সাংবাদিককে হুমকি দেয়। তারা সংবাদটি ডিলিট না করলে এর পরিণাম ভালো হবে না বলেও আল্টিমেটাম দেয়।”

খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই হেনস্থার ঘটনায় মো. সবুজের সঙ্গে বাবুল মিয়ার ছেলে রিফাত, রাশেদ, আব্দুর রহিমের ছেলে রনি এবং লইরা শরিফের ছেলে সাজ্জাদসহ আরও কয়েকজন অংশ নেয়।

স্থানীয় সচেতন মহল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা মনে করেন, সড়ক দখল, জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং সত্য প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাইকোর্টের আদেশ অমান্য, বাঁশখালীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মব সন্ত্রাস ও ভাঙচুরের অভিযোগ

সড়ক দখল নিয়ে প্রতিবেদন, সাংবাদিককে হেনস্থার অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:৫০:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় সড়ক দখল সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে এক ঊর্ধ্বতন সাংবাদিককে দলবদ্ধভাবে হেনস্থা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সন্ধ্যায় নিকুঞ্জের জামতলার জাহিদ ইকবাল চত্বর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর খিলক্ষেত থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির আহ্বায়ক এবং সিনিয়র সাংবাদিক জাহিদ ইকবাল নিকুঞ্জের জামতলা এলাকার সড়ক দখল নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন। এই সড়কটি এমনিতেই সরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে প্রায়শই সমস্যা হয়। এর মধ্যে সড়কের একটি অংশ দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করায় পথটি আরও সংকুচিত হয়ে পড়ে। এই দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলামের ছেলে মো. সবুজসহ প্রায় ৩০ জন যুবক দলবদ্ধভাবে সাংবাদিক জাহিদ ইকবালকে ঘিরে ধরে হেনস্থা করে বলে অভিযোগ। এ সময় সেখানে উপস্থিত তার কয়েকজন বন্ধুকেও ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়া হয়।

ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অভিযুক্ত যুবকদের একটি দল সাংবাদিক জাহিদ ইকবালকে ঘিরে ধরে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক জাহিদ ইকবাল জানান, তার প্রতিবেদন প্রকাশের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, “রাস্তার একটি অংশ দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর কিছু ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে আমার ওপর চড়াও হয়।”

প্রত্যক্ষদর্শী মতিউর রহমান স্বপন জানান, “কিছু উশৃঙ্খল যুবক সড়ক দখলের বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ মুছে ফেলার জন্য সাংবাদিককে হুমকি দেয়। তারা সংবাদটি ডিলিট না করলে এর পরিণাম ভালো হবে না বলেও আল্টিমেটাম দেয়।”

খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই হেনস্থার ঘটনায় মো. সবুজের সঙ্গে বাবুল মিয়ার ছেলে রিফাত, রাশেদ, আব্দুর রহিমের ছেলে রনি এবং লইরা শরিফের ছেলে সাজ্জাদসহ আরও কয়েকজন অংশ নেয়।

স্থানীয় সচেতন মহল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা মনে করেন, সড়ক দখল, জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং সত্য প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।